ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

আইইউটি’র সমাবর্তন বর্জনের সিদ্ধান্ত!

|| প্রকাশ: ২০১৬-১২-০৭ ১১:৩৫:০৬

অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কান্ট্রিজ (ও.আই.সি) কর্তৃক পরিচালিত আইইউটি (ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি) একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের অন্যতম প্রযুক্তিভিত্তিক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি সার্কুলার এ বেশ কিছু অযৌক্তিক ও বিতর্কিত বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানিয়েছে।
আইইউটিতে বিএসসি প্রোগ্রামে দুইটি ভাগে ছাত্র ভর্তি হয়। একটি অংশ হল রেগুলার ফাইন্যান্স স্কিম যাতে শিক্ষার্থীরা ওআইসি থেকে বৃত্তি পায়। এদের সংখ্যা ১০০ থেকে ১২০ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। মেধাতালিকার ক্রম অনুসারে এদের নেওয়া হয়। আরেকটি অংশ হল সেলফ ফাইন্যান্স স্কিম। প্রথম ১০০ বা ১২০ জন এর পর এদের নেওয়া হয়। এরা ওআইসি থেকে বৃত্তি পায় না। এ দুইটি স্কিমের মধ্যে পার্থক্য হল অর্থের পরিমাণের। এ দুইটি স্কিমের ছাত্রদের জন্যই হলে জায়গা বরাদ্দ থাকে। যেখানে এর আগে ওআইসি স্কলারশিপের মাধ্যমে ১১০ জন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী রেগুলার স্কিমে ভর্তি হতে পারতো সেখানে এবার তা কোন রকম নোটিশ ছাড়াই ৭০ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। যদিও ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞাপনে এমনটা লেখা ছিল না। এতে করে অনেক ভর্তি পরিক্ষার্থী সমস্যার মধ্যে পড়ে। কারণ যারা টাকার কথা চিন্তা করে সেলফ স্কিমের জন্য আবেদন করেনি যেমন ১০০ এর আশেপাশে তারা মারাত্মক হতাশ হয়ে পড়ে এমন হয়ে এবং অনেকেই নিশ্চিত ছিল রেগুলার স্কিমে সুযোগ পাবে তারাও এ ঘোষণা অনুযায়ী সেলফে পড়ে যায়। এদের অনেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা আবেদনের অপেক্ষা না করে আইইউটির জন্য অপেক্ষায় ছিল বলে জানা যায়। সে মূহুর্তে এ ঘোষণা সত্যিই হৃদয়বিদারক। অন্যদিকে এই ৭০ জনের মধ্যে ৫৮ জন সরাসরি ওআইসি স্কলারশিপের মাধ্যমে ও বাকি ১২ জন ছাত্র ‘নিড এওয়্যার’ নামক অস্বচ্ছ এবং সম্পূর্ণ অস্পষ্ট একটি নিয়মে বৃত্তি পাবে। কেননা, এই পদ্ধতিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রদের অর্থনৈতিক সমস্যা আছে কিনা তা জানার কোন উপায় নেই। এছাড়া এই বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্ররা যাদের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে সেই ব্যক্তি বা কমিটির স্বচ্ছতা নিয়েও ছাত্ররা ভীত।
এসবের সাথে আবার যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ১০০ ডলার ফি। ভর্তি কার্যক্রমের তালিকায় এই ১০০ ডলার কি কাজে লাগবে তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। এই ১০০ ডলারকে কর্তৃপক্ষ প্রসেসিং ফি হিসেবে দেখিয়েছে। হঠাৎ করে শিক্ষার্থী বাড়ানো হলেও হলে সিট সংখ্যা সীমিত থাকায় ভর্তিকৃত সব শিক্ষার্থীকে আসন দেওয়া সম্ভব নয়। হলে খালি আসন আছে ২২০ টি। ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সেলফ স্কিমের ১০০ জন ও রেগুলার স্কিমের ৭০ জন শিক্ষার্থীরা হলে আসন পাবে । কিন্তু সেলফ স্কিমের শিক্ষার্থীরা কিভাবে হলে আসন পাবে তার কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয় নি। ওআইসি’র সকল স্কলারশিপই মূলত আবাসিক সেখানে হলে সিট দেয়া সম্ভব না হলে এই শিক্ষার্থীরা ঢাকা থেকে যানজট পেরিয়ে এতদূর ক্লাস করতে আসলে যেমন পড়াশোনার মান নষ্ট হবে, নষ্ট হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা। তাছাড়া, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ৫০০০ টাকা যা নিতান্তই অমূলক।
এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে আই ইউ টির বর্তমান ও পূর্বের শিক্ষার্থীরা বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর ড. মুনাজ আহমেদ নূর ও কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছে এবং তাদের মধ্যে এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ব্যাচ’১২ এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এবং তাদের দাবি জ্ঞাপন করে। কিন্তু আন্দোলনের কোন উত্তর না পাওয়ায় তাদের পরবর্তী প্রতিবাদস্বরূপ বিদায়ী ব্যাচ তাদের সমাবর্তন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয় যা ৮ই ডিসেম্বর আইইউটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবার কথা । মাননীয় সরকার ও যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ছাত্রদের এই কর্মসূচি বলে জানা যায়। উল্লেখ্য , এ সমাবর্তনে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সাথে উপস্থিত থাকবেন সহ প্রায় ২০ টি দেশের রাষ্ট্রদূতগন।