ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

ব্লক মার্কেটে লেনদেনের রহস্য

:: সিটি রিপোর্ট || প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১৯ ২২:৪৩:৩৭

সাধারণত ব্লক মার্কেটে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করে না বরং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ব্লকে বেশি লেনদেন করে। তবে কেউ চাইলে পাঁচ লাখ টাকার উপরের সমমানের শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন করতে পারে। ব্লক মার্কেটকে অনেক সময় কারসাজি চক্র নিজের হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগায় বা কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।

ব্লক মার্কেটে লেনদেনের আগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতার উভয়ের মাঝে একটা বোঝাপড়া থাকে বা অনেক সময় নাও থাকতে পারে। মূলত ব্লক মার্কেটে শেয়ার লেনদেন হয় ক্রেতা বিক্রেতার উভয়ের মঝে ডিল (চুক্তির) মাধ্যমে। স্বাভাবিক মার্কেটে বড় ভলিয়মের লেনদেন মূল্য হ্রাস বা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করে। এই কারণেই স্বাভাবিক মার্কেটকে প্রভাব মুক্ত রাখতে ব্লক মার্কেটে লেনদেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্লক মার্কেটে শেয়ার লেনদেনের নানা উদ্দেশ্য থাকে। কয়েকটি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাক। যেমন

অনেক সময় ব্লক ট্রেড করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই মনে করেন ব্লক মার্কেটে কোন শেয়ারের লেনদেন একটা ভালো লক্ষণ। এখানেই ফাঁদ থাকতে পারে। ট্রেড যে মার্কেটে হোক না কেন, যেই করুক না কেন। অভারভ্যালূড (উচ্চ দামে) দামে শেয়ার ক্রয় করা যাবে না।

ব্লক ট্রেড হয়েছে মানে বড় কোন ইনভেস্টর ক্রয় করছে এ ধারণা সত্য নয়। ব্লক ট্রেডে বড় কোন ইনভেস্টর শেয়ারটি বিক্রয় করে বেরও হয়ে যেতে পারে। যে কেউ পাঁচ লাখ টাকার উপরের শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করতে চাইলে ব্লক মার্কেটে ট্রেড করতে পারে। অনেক সময় পাব্লিককে আকৃষ্ট করতে ব্লক মার্কেটে নিজেদের মধ্যে ট্রেড করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ আছে, যখন একটা শেয়ারের ডিমান্ড থাকে না। কিন্তু সাপ্লাই থাকে বড় কোন ট্রেডারের কাছে, তখন সে অন্য কোন বড় প্রতিষ্ঠান, ট্রেডার, ম্যানেজারকে ম্যানেজ করে একটা দাম ঠিক করে। নির্দিষ্ট দামে শেয়ারটি বিক্রয় করে। এক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে আন্ডার হ্যান্ড ডিলিং (গোপন চুক্তি) থাকে। যেমন “ক” কোম্পানির ১০ লাখ শেয়ার ব্লকে কোন প্রতিষ্ঠানকে দিল, মানে প্রতিষ্ঠানের কোডে বিক্রয় করলো। শর্ত প্রতিটি শেয়ার যে দামে ক্রয় করা হয়েছে সেখান থেকে বিক্রেতা ঐ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে ২ টাকা করে দিবে। ব্যাস ম্যানেজারের ২০ লাখ টাকা ব্যবসা হয়ে গেল। ঐ শেয়ার ক্রয় করে যে লাভ বা লচ তাতো প্রতিষ্ঠানের, ম্যানেজারের না।

আবার অনেক সময় দেখা যায় মূল মার্কেটে যে দামে শেয়ার ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে ব্লকে তার থেকে কম বা বেশি মূল্যে ক্রয় বিক্রয় হয়। ব্লকে মূল মার্কেটের তুলনায় বেশি দামে ক্রয় বিক্রয় হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে যেমন গুরুত্বপূর্ণ দুটি কারণ আলোচনা করা যাক। প্রথমত মূল মার্কেটে শেয়ারটি পাওয়া যাচ্ছে না বা পেলেও ঐ পরিমান শেয়ার ক্রয় করতে গেলে দাম বেশি বেড়ে যাবে। ফলে ব্লকে কিছুটা বেশি দামে ক্রয় বিক্রয় হয় শেয়ারটি কালেকশনের উদ্দেশ্যে। দ্বিতীয়ত ঠিক উল্টা, কোন বড় বিনিয়োগকারীর কাছে প্রচুর শেয়ার আছে, মার্কেটে শেয়ারটির দামও অনেক বেড়ে গেছে এমন সময় শেয়ারগুলো বিক্রয় করতে পারলে প্রচুর মুনাফা আসবে হাতে। কিন্তু সমস্যা হলো এতো শেয়ার বিক্রয় করতে হলে সেল প্রেশারে শেয়ারটির মূল্য পতন হতে পারে। এমন অবস্থায় মূল মার্কেটের তুলনায় একটু কম দামেও শেয়ারটি ব্লকে বিক্রয় হয়।

অনেক সময় ব্লকে লেনদেন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা উদ্দেশ্য হলেও, বড় উদ্দেশ্য নিজেকে বিনিয়োগ সেফ করা। আর সেখানে অন্য কোন দালালের সহযোগিতায় অন্যে ট্রেডার, ব্যক্তি, বা প্রতিষ্ঠান শেয়ার কেনে।আবার নিজেদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের মধ্যদিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঐ কোম্পানিতে নতুন বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার চেস্টা থাকতে পারে। অনেক সময় কোম্পানির সঙ্গে সম্পৃক্ত উদ্যোক্তা পরিচালকরা রাজস্ব ফাঁকি দিতে কম মূল্যে শেয়ার হস্তান্তর করে।

ব্লক মার্কেটে লেনদেন মাঝে মধ্যে বাড়ে। অনেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নিজেদের মধ্যে শেয়ারের হাতবদল করে। কারণ জুন মাসে আর্থিক বছর শেষে প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের আয় বা মুনাফা বাড়িয়ে দেখাতে এ কৌশলের আশ্রয় নেয়। জুন মাসে অনেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর আর্থিক বছর শেষ হয়। বছর শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো আয় ও মুনাফা দেখাতে নিজেদের মধ্যে শেয়ারের হাতবদল করে। অতীতে এমনও দেখা গেছে এক মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার অন্য মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে লেনদেন করা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতা দুই ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান একই।

এছাড়া কোম্পানির পরিচালকরা শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের ঘোষণা দিয়ে ব্লক মার্কেকে লেনদেন করে। অনেক সময় তারা আইনের শর্ত পূর্ণ করার জন্য শেয়ার ক্রয় করে। বোনাস বিক্রয় করে।