ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০

বিজয় দিবস নিয়ে কী ভাবছে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

:: আসিফ খান || প্রকাশ: ২০১৯-১২-১১ ১৮:৫৭:৪৭

দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর এই দেশ পেয়েছিল স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব পেতে দিতে হয়েছে ত্রিশ লক্ষ তাজা প্রাণ। সম্ভ্রম হারিয়েছেন দুই লক্ষ মা-বোন। অনেক কষ্টার্জিত এই স্বাধীনতার মাস ডিসেম্বর আসলেই আমাদের মাঝে জেগে ওঠে সেই ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা। ঐতিহাসিক বিজয়ের কথা।

দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তারুণরা বরাবরই এগিয়ে এসেছে। মোকাবেলা করেছে সঙ্কট। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে শিক্ষা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল যৌক্তিক আন্দোলনেই দেখা গেছে তরুণদের।

তাই তো কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য তার তারুণ্য কবিতায় বলেছিলেন,
“হে দেবতা আলো চাই, সূর্যের সঞ্চয়
তারুণ্যের রক্তে মোর কী নিঃসীম জ্বালা!
অন্ধকার অরণ্যের উদ্দাম উল্লাস
লুপ্ত হোক আশঙ্কায় উদ্ধত মৃত্যুতে।”

তারুণ্যের এই শক্তিই দেশের আগামী দিনের সম্ভাবনার কথা বলে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মানে বিজয়ের এই মাসে নতুন করে শপথ নেয় তরুণনা । তারুণ্য নির্ভর শিক্ষার্থীদের চোখে থাকে দীপ্তি। সাহস। ভালোবাসা। ৪৯তম বিজয় দিবসের দ্বারপ্রান্তে এসে কী ভাবছেন তরুণরা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা লিখেছেন আসিফ খান।

 

আরও একটি বিপ্লব প্রয়োজন

এস এম রাকিব সিরাজী
আরবী বিভাগ

আমার কাছে বিজয় দিবস মানে ‘জয় বাংলা,বাংলার জয়’ গান শুনে খুব ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে বাবার সাথে স্কুলের মাঠে গিয়ে সবার সাথে ছোট্র আমিও পতাকা উত্তলোনের রশি ধরে টানা আর বাবার মত করে পতাকার দিকে তাকিয়ে থাকা।

একটু পরে আবার আপুদের সাথে বিজয় মেলায় যাওয়া সারাক্ষণ ঘুরেফিরে আনন্দ করা।অপরদিকে বিজয় দিবসের ভাবনা হচ্ছে আমরা একটি ভৌগোলিক বিজয় পেয়েছি বহুবছর আগে।অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিজয়ের জন্য আরো একটি বিপ্লব প্রয়োজন।

 

অন্তত একটি ভালো কাজ করতে হবে

শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

আমার মনে হয় বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবস যতটা না আনুষ্ঠানিকতার, তার চাইতে অনেক বেশি ধারণ করার জিনিস। আমাদের আনুষ্ঠানিকতা বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে কমেছে অন্তরের লালন। যে তারুণ্য আশা দেখাবে, সেই তারুণ্যই হতাশ করছে বারবার। তাদেরকে বিকশিত হতে দেয়া হচ্ছে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতার অভাব, শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ, নিম্নমান, দুর্নীতি, অচলায়তন, দূষণ, অসহিষ্ণুতা অনেককিছুকে জয় করতে হবে আমাদের।

বিজয় দিবসে শপথ নেই অন্তত একটা ভালো কাজ করার। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে। আমি এই বিজয় দিবসে আমার হল প্রাঙ্গণে একটি শিউলি গাছ লাগাব। শিউলির সুবাসের মতন শুদ্ধ হোক আমার হলের পরিবেশ, সেই কামনাই থাকবে আমার।

 

ছাত্রসমাজের ঘুম ভাঙ্গাতে হবে

সাফিন উজ জামান
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

যুদ্ধ শেষ হয়েছে ৪৮ বছর আগে। অথচ ৪৮ বছর আগে যে স্বপ্ন নিয়ে আমাদের পূর্বসূরীরা নানা ত্যাগ-তিতিক্ষা সহ্য করে এই লাল সবুজের পতাকাটা এনে দিয়েছিল,সেই স্বপ্ন কি আজও পূরণ হয়েছে? মুক্তিযোদ্ধাদের একটা বড় অংশ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দেশ গড়ার কাজেও তাদেরই প্রধান ভূমিকা থাকার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা কি আদৌ তাদের কাজগুলো করছে? কি করছে বা কি করছেনা সেটা বলার মত সৎ সাহস আমার নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ তম সমাবর্তনে মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও আচার্য এডভোকেট আব্দুল হামিদ প্রায় সবটুকুই বলেছেন।একটা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের যখন এ অবস্থা হয়, তখন তার অন্যান্য অবস্থা যে শোচনীয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অথচ এসব নিয়ে যাঁদের বলার কথা সেই ছাত্রসমাজও ঘুমন্ত।একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে এই ঘুম ভাঙানোর কোন বিকল্প পথ আমাদের সামনে আর খোলা নেই।

 

রাজনৈতিক বিভেদ ভুলতে হবে

তানজিমা তানি
আরবি বিভাগ

বর্তমান বাংলাদেশ থেকে এ জিজ্ঞাসার সন্তোষজনক সত্য জবাব পাওয়া সম্ভব নয়।দলাদলি এবং রাজনৈতিক বিভক্তি দেশে গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সব সমস্যা মোকাবেলায় সচেষ্ট হলে আমাদের দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

দল-মত ভুলে, রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে আমারা ঐক্যবদ্ধভাবে এ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ব এই হোক বিজয় দিবসের শপথ।