ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০

কুবির প্রথম সমাবর্তন নিয়ে গ্রাজুয়েটদের ভাবনা

:: এম এম ইরফান || প্রকাশ: ২০১৯-১২-২৫ ১২:২৬:৩৯

মাথায় কালো ক্যাপ, গায়ে কালো গাউন আর মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি গ্রহণ করা যেন সাবেক-বর্তমান প্রতিটি গ্রাজুয়েটের স্বপ্ন। আর এ স্বপ্ন বাস্তব রূপ পায় সমাবর্তনে। আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনকে ঘিরে গ্রাজুয়েটদের যেন উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। সমাবর্তন নিয়ে গ্রাজুয়েটদের মনে লালিত স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে জানাচ্ছেন কুবি প্রতিনিধ এম এম ইরফান

প্রিয় বন্ধু ও ফেলে আসা স্মৃতি টানছে

ড. মোহাম্মদ মাহাদী হাসান
ইংরেজি বিভাগ
প্রথম আবর্তন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন নিয়ে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রায় তিন হাজারের কাছাকাছি গ্র‍্যাজুয়েট পুনরায় মিলিত হবার আশায় রেজিষ্ট্রেশন করেছে। প্রিয় বন্ধু ও ফেলে আসা স্মৃতির কাছে আরেকবার ফিরে যেতে সবাই সাগ্রহে অপেক্ষা করছে। এই উচ্ছ্বাস ও সফলতা সবার।

সমাবর্তন বক্তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাছাড়া সনদপত্রে যেন কোন ভুল না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। যেহেতু মহামান্য রাষ্ট্রপতি আসছেন, তাই সমাবর্তন এর আগেই সব গ্র‍্যাজুয়েটদের রিহার্সাল করানো জরুরী। আশারাখি কুবি প্রশাসন এসব নিয়ে ভাবছে।

সমাবর্তনে যাবো, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গ্র‍্যাজুয়েটদের সাথে দেখা হবে, পরবর্তীতে গুরু জেমস্ এর কনসার্ট এ কুবির ১৪তম ব্যাচ অব্দি সবাইকে পাবো, একেকটা মেধার আগ্নেয়গিরি ও ভালোবাসার ভাইবোনদের কাছে পাবার লোভ সামলানো দায়।
একটা প্রাণবন্ত ও সফল সমাবর্তন চাই।

সুষ্ঠু সমাবর্তন কামনা করছি

মিথিলা সরকার
গণিত বিভাগ
পঞ্চম আবর্তন

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদের কাছে কালো গাউনে ক্যাপ উড়ানো সমাবর্তন একটি প্রত্যাশিত প্রাপ্তি। আর যেহেতু প্রথম সমাবর্তন তাই প্রত্যাশাটা একটু বেশিই থাকে। সর্বপ্রথম একজন প্রাক্তন হিসেবে একটি সুষ্ঠু সমাবর্তন কামনা করছি, যার মাধ্যমে শিক্ষক-ছাত্রদের একটি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে।

মাননীয় রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সনদ নেওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো বক্তাও কাম্য। এটি সমাবর্তনের মূল আকর্ষণও বটে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি অনুষ্ঠান যাতে দৃষ্টান্তমূলক হয় এটাও প্রত্যাশিত। সর্বোপরি শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি সমাবর্তন প্রত্যাশা করছি।

চায়ের কাপে উষ্ণ আড্ডায় মেতে উঠবো আর একবার

হানিফ ওয়াহিদ
লোক প্রশাসন বিভাগ
সপ্তম আবর্তন

শিক্ষাজীবন শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আকাঙ্ক্ষা থাকে স্বীকৃতির। সমাবর্তন হলো সেই স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিকতা। সমাবর্তনের কথা ভাবতেই চোখে মুখে ভেসে উঠে এই বুঝি মাথার ক্যাপ খুলে ছুঁড়ে মারলাম আকাশের দিকে। বড় ভাই/বোন বন্ধুরা লাফ দিলাম আর সাথে সাথেই ক্যামেরাবন্দি হয়ে গেলো মুহূর্তটি।

সাবেক বর্তমানদের পদচারণায় এক আবেগাপ্লুত পরিবেশ, হৈ-হুল্লোড় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো ক্যাম্পাস। বন্ধুদের সাথে আবার এক হয়ে চষে বেড়াচ্ছি লাল মাটির সবুজ ক্যাম্পাস আঙ্গিনা।

স্বপ্ন দেখি সিনিয়র, জুনিয়র ও সহপাঠীদের মিলন মেলায় এক অন্যরকম মুহূর্তের। টং দোকানগুলোতে চায়ের কাপে উষ্ণ আড্ডায় হারিয়ে যাবো পুরানোতে। ফেলে আসা কতশত মুহূর্ত, গল্প ক্যাম্পাস মাতিয়ে তোলার দিনগুলো রোমন্থন হয়ে এক নতুন অধ্যায়ের জন্ম দিবে। নতুন পুরোনোতে মিলেমিশে একাকার হোক লালমাটির সবুজ চত্ত্বর। মূলত পুরানো দিনগুলো ফিরে পাওয়ার এক তীব্র ভাবনা কাজ করছে।

সর্বককনিষ্ঠ গ্রাজুয়েট হিসেবে অংশগ্রহণ করব

আব্দুল জাহির
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ
অষ্টম আবর্তন

সমাবর্তন ছাত্রজীবনের চরম আকাঙ্ক্ষিত একটি মুহুর্ত। বিশ্ববিদ্যালয়েরর প্রতিটি শিক্ষার্থীই অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করে এই কাঙ্ক্ষিত মুহুর্তটির জন্য। আর তা যদি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন তাহলে তো আর কথাই নেই। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের সর্বককনিষ্ঠ গ্রাজুয়েট হিসেবে অংশগ্রহণ করব, একথা ভাবতেই মনে আনন্দের শিহরণ জাগে। কতশত স্বপ্ন বুনেছি এই সমাবর্তনকে ঘিরে।

কালো গাউন, ক্যাপ পরে আনন্দের জোয়ারে ভাসা, ক্যাপ আকাশে উড়িয়ে ছবি তুলা, আমার এতটুকু আসার পেছনে মহৎ ব্যক্তিদের প্রিয় ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে একসাথে শেষ আনন্দটুকু উপভোগ করা, যেমনটা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হয়ে আসছে।

সমাবর্তন নিয়ে যেমন আগ্রহের শেষ নেই তেমনি প্রত্যাশা ও অনেক। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করেই সমাবর্তন সেহেতু প্রশাসনের উচিত প্রাক্তনদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আবেগকে মূল্যায়ন করা। পরিশেষে বলতে চাই, সকলের আন্তরিকতাই আমাদের এই মহাআনন্দঘন মুহুর্তটির সফল বাস্তবায়ন হবে বলে বিশ্বাস করি।