ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২০

বাড়িওয়ালাদের কাছে জিম্মি বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

:: বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি || প্রকাশ: ২০২০-০১-০৪ ১২:০০:৫৪

ভাড়াকৃত বিভিন্ন মেসে থাকতে গিয়ে বাড়িওয়ালাদের স্বেচ্ছাচারীতার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১২০০০ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত থাকলেও পাঁচটি হলে মাত্র ১৫০০ সিট রয়েছে। ফলে প্রায় ১০,০০০ শিক্ষার্থী তাদের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে বিভিন্ন মেসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এই সুযোগটিই গ্রহণ করছেন বাড়িওয়ালারা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশের অন্যান্য যে কোনো এলাকার তুলনায় গোপালগঞ্জে বাড়িভাড়া অনেক বেশি এবং বাড়িভাড়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও গোপালগঞ্জের বাড়িওয়ালারা তা মেনে চলেননা। নীতিমালা অনুযায়ী দুই বছর পর বাসা ভাড়া বৃদ্ধি করার কথা থাকলেও গোপালগঞ্জে প্রতিবছরই বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়।

সরেজমিনে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বাড়িভাড়ার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় তিনজন থাকতে পারে এমন একটি রুমের নূন্যতম ভাড়া প্রায় ৪৫০০ যেখানে দুজন থাকতে পারে এমন রুমের নূন্যতম ভাড়া প্রায় ৩৫০০ এবং একজন থাকার উপযোগী একটি রুমের ভাড়া প্রায় ৩০০০।

এই উচ্চমূল্যের বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। পরিবেশ বিজ্ঞান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান জানান, “আমাকে একটি সিটের ভাড়া হিসেবে প্রতিমাসে ২০০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এই উচ্চ ভাড়া পরিশোধ করতে গিয়ে দিনের একটি বড় অংশ টিউশনিতে ব্যয় করতে হচ্ছে ফলে পড়ালেখায় সঠিকভাবে মনোযোগ দিতে পারছিনা।”

শুধুমাত্র উচ্চ ভাড়াই নয় বেশিরভাগ বাসাই নির্মাণধীন অবস্থায় প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করেই ভাড়া প্রদান করা হয়। এছাড়া বাড়ি ভাড়া নেয়ার সময় এক বছরের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয় ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলেও বাসা ত্যাগ করতে পারেননা।
বাসাভাড়া বেশি বিষয়ে এক বাড়িওয়ালার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমার পুরো পরিবার বাড়িভাড়ার টাকায় চলে। দ্রব্যমূল্যের দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে”
এছড়া চুক্তির বিষয়ে তিনি জানান, “অনেক সময় দেখা যায় বাড়িভাড়া নিয়ে বছরের মাঝামাঝি সময় ছেড়ে দেয়। তখন ভাড়াটিয়া পাওয়া যায়না তাই আমরা চুক্তি করি”

বশেমুরবিপ্রবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম জানান, “পড়ালেখায় সঠিকভাবে মনোনিবেশ করার জন্য একটি সুন্দর পরিবেশের প্রয়োজন হয়। কিন্তু যারা বিভিন্ন মেসে থাকে তারা বেশিরভাগই এই পরিবেশ পায়না। সেই সাথে উচ্চ বাসা ভাড়া পূরণের জন্য তাদের আর্থিকভাবেও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় যা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং হতাশাগ্রস্ত করে তোলে।”

বশেমুরবিপ্রবির ছাত্র কল্যাণ পরিচালক কাজী মসিউর রহমান বলেন, “আবাসন সমস্যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা। রাতারাতি এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। নতুন হল নির্মাণের পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থী সংখ্যাও কমাতে হবে। আমরা পরিকল্পনা করছি পরবর্তী বছর থেকে প্রথম বর্ষে প্রতিটি বিভাগে আসন সংখ্যা ৪০ এ কমিয়ে আনতে। এছাড়া বর্তমানে উচ্চ বাড়ি ভাড়া সমস্যার সমাধান হিসেবে আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবিধাজনক বাড়ি ভাড়া নির্ধারণের চেষ্টা করবো।