ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০

৩৫ প্রত্যাশীদের মানবিক গণ ভাবনা-১০

:: জাকির হোসেন || প্রকাশ: ২০২০-০১-০৯ ১৩:২২:০২

(ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম)
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩০ আর অবসরের সময়সীমা ৬০ বছর।
ষাটের ঘরে পৌছেছি বলেই কর্ম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি তাই আমাকে অবসরে দেয়া হলো, বুদ্ধির বা জ্ঞানের লুপ পেয়েছে বিধায় আমাকে অবসরে দেয়া হলো। চলাফেরা করতে সমস্যা আমি বৃদ্ধ/বৃদ্ধার কাতারে সামিল হয়েছি। অফিস আদালতে অচল হিসেবে ঘোষিত হয়েছি বলেই আমি অবসরপ্রাপ্ত। দোকানীর কাছে, পাশের বাড়ির বন্ধুর কাছে, সমাজের কাছে, চাকরিজীবী সন্তানের কাছে, ছেলের বউয়ের কাছে অথবা ৩৫ বছর সংসার করা স্ত্রীর কাছেও আমি অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচিত।
আমি এখন অবহেলার পাত্র হিসেবে ঘোষিত হবো নাকি সম্মানী ব্যক্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলতে পারবো বাকিটা জীবন??
অতঃপর
হঠাৎ স্ত্রী মারা যাওয়ায় আমি খুবই ভেঙে পরলাম বয়স তখন ৬৭, ছেলেটা বউ মাকে নিয়ে শহরে থাকে। তাদের সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত ওরা, আমাকে কাজের লোক রেখে দিয়েছে কিন্তু মাইনে নিয়ে টানাপোড়েন করায় আমি আবারও একা হয়ে গেলাম। কয়েক দিন রুটি কলা খেয়ে খেয়ে খুবই দূর্বল হয়ে গেলাম। এটা দেখার পর এক প্রতিবেশি শিক্ষক আমাকে একটি বৃদ্ধাশ্রমের ঠিকানা দিয়ে ওখান থেকে ঘুরে আসার পরামর্শ দিল, আমি দেখতে ঠিকই গেলাম কিন্তু আমার আর ফিরে আসা হলোনা,
এখন, ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।।
(অনেকের ক্ষেত্রে ঠিক তাই-ই ঘটে)।

আমার বাঁচা বা মরা সেটা নির্ভর পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার হাতে তবুও ভাবনা বা স্বপ্নতো থাকতেই পারে অন্ততঃ গড় আয়ু ৭৩-এ পদার্পণ করেই মৃত্যুর সাধ গ্রহন করবো কিংবা তারও অধিক আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন আমার আল্লাহ্। তাহলে ষাটেই(৬০) কেন আমাকে অবসরে দিবেন, আমি যদিবা স্নাতকত্তোর করে ষাটের কোটায় জ্ঞানহীন বলে বিবেচিত হই, অফিসের কর্ম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি, শিক্ষার সমস্তটাই নষ্ট করে ফেলি তাহলে সরকারের কিছু মহলে আপনারা যাঁরা ৮০ পার করে দিয়েও এখনো হেসে খেলে চালিয়ে যাচ্ছেন বেশ।

এটা কি করে সম্ভব? আপনাদের জ্ঞানের বুঝি বিলুপ্তি নেই??
আপনারা আমাকে নিয়ে যা ভেবে অবসরে দিয়েছেন, আমি ঠিক তার বিপরীত দিকে আপনাদের নিয়ে ভাবি, আমার ভাবনা আপনার বয়স যত বৃদ্ধি হয়েছে কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাধীন দেশটাতে আবার ব্যতীক্রম কিছুও উপলব্ধি করছি, সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিচ্ছি পুনরায় আমাদের ভেতর কেউ কেউ সরকারের বিভিন্ন স্তরে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের পর সরকারের কোন এক পর্য্যায়ে বসেছি হোক সেটা সংসদ কিংবা উপজেলা অথবা ইউনিয়নের কোন এক আসনে, এর মানে কর্ম ক্ষমতা সে হারায়নি। তাহলে কর্মদক্ষতা না হারালে অবসরে দিতে হবে কেন?

সুতরাং অবসরের সময়সীমা বৃদ্ধি করে ৭৩ বছর করা অতীব প্রয়োজনীয় অন্তত কারও কাছে অবহেলার পাত্র হিসেবে বাঁচতে হবে না, যা বৃদ্ধ বয়সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে প্রত্যেক চাকরিজীবী মা বাবার জন্যে। অন্যদিকে নিজেদের পানে তাকিয়ে দেখুন বয়স বাড়লে চিন্তা শক্তিও বৃদ্ধি পায়।

আর গড়আয়ুর বিষয়ে চিন্তা করলে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৪৩-৪৪ করলেও বেমানান বলে বিবেচিত হবে না বরং বহিঃ বিশ্বকে জানান দেয়া হবে যে, আমরাও তাল মিলিয়ে চলছি আপনাদের সাথে, আর পিছিয়ে নয় কোন দিকে।

অর্থ্যাৎ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র কল্যাণ পরিষদের দাবি ৩৫ বৎসরকে কেন অযৌক্তিক বলে বারবার থামিয়ে দিতে চাচ্ছেন এই দাবি ১০০% যৌক্তিক দাবি, এই যৌক্তিক দাবিটি পূর্ণ করার জন্যে সরকারের কাছে অনুরোধ জ্ঞাপন করছি।

জয় বাংলা
জয় হোক মানবতার
জয় হোক গণ ভাবনার

জাকির হোসেন
সমন্বয়ক
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ