ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

দ্বিতীয় শিফটে ক্লাস নেবে না কারিগরি শিক্ষকরা

:: সিটি রিপোর্ট || প্রকাশ: ২০২০-০১-১৪ ১৩:৪২:৪৩

মূল বেতনের শতভাগ প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। তারা বলছে, দাবি মেনে নেয়া না হলে শিক্ষকরা পরবর্তী সেশন থেকে দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস নেবেন না।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ঘোরাও করে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হলেও এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। জনবল বৃদ্ধি না করে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২য় শিফট কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অমানবিক পরিশ্রম করে আমরা তা চালিয়ে নিয়ে গেলেও সে সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। বরং এ জন্য আগে বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ দেয়া হলেও তা কমিয়ে ২০১৫ সালের বেতন স্কেলের ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।

তারা বলেন, ২য় শিফট পরিচালর জন্য শিক্ষক-কর্মকর্তারা বেতনের ৫০ শতাংশ পেলেও নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমান বেতনের ২০ শতাংশ দেয়া হবে। এ সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিব না, যেখানে ২য় শিফট পরিচালনার জন্য পর্যাক্রমে আমাদের সুবিধা বাড়িয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এ জন্য সকলে সমাবেত হয়ে চার দফা দাবিতে কারিগরি অধিদপ্তর ঘোরাও করে তারা চার দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন।

তাদের দাবি দাওয়াগুলো হচ্ছে- নতুন এ নির্দেশনা বাতিল করণ, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বর্তমান মুল বেতনের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ অর্থ প্রদান করা এবং করিগরি শিক্ষার নিয়োগবিধি মোতাবেক অধিদপ্তর ও বোর্ডের সকল পদ কারিগরি শিক্ষার কর্মকর্তাদের দ্বারা পূরণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

আমাদের প্রচেষ্টায় পর্যায়ক্রমে পলিটেকনিক, মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট, গ্রুপ এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি হলেও এ জন্য জনবল বৃদ্ধি করা হয়নি। তাই তাদের দাবি মেনে নেয়া না হলে চলতি বছর ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হতে যাওয়া পরবর্তী সেসনের ২য় শিফটের ক্লাস নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পলিটেকনিক্যাল পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যকর কমিটির সভাপতি মো. তাহের জামিল বলেন, ১৯৮৩ সাল থেকে ৪৯টি কারিগরি পলিটেকনি ও ৬৫টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ২য় শিফট চালু করা হয়। বাড়তি ক্লাসের জন্য শুরুতে আমাদের মূল বেতনের ৫০ দিয়ে শুরু করা হলেও পরে তা বৃদ্ধির করা বলা হয়। অথচ তা না বাড়িয়ে আরো কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রাপ্য সুবিধা আদায় করতে বিগত সময়ে পাঁচবার আন্দোলনে নেমেছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের বারবার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ কারণে আগামী সেসন থেকে আমরা ২য় শিফটে আর ক্লাস নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।