ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২০

প্রাথমিকে ১৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কেন অবৈধ নয়

:: সিটি রিপোর্ট || প্রকাশ: ২০২০-০১-১৪ ১৫:৪৯:৩৭

গত ২৪ ডিসেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ১৮ হাজার ১৪৭ জনের নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা কেন অবৈধ ও বেআইনি হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে দশ দিনের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

২০১৩ সালের শিক্ষক নীতিমালা অনুসরণ না করায় ১৬ জন নিয়োগ প্রার্থীদের পক্ষে করা এক রিটের শুনানি শেষে এই রুল জারি করা হয়।

১৬ জন নিয়োগ প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. কামাল হোসেন। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার লোমত আরা চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের রুলের বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩ এর ৭ ধারায় বলা আছে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদগুলোর ৬০ শতাংশ নারী প্রার্থীদের দ্বারা, ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের মাধ্যমে পূরণ করা হইবে। কিন্তু ২৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে তা মানা হয়নি । তাই ১৬ জন নিয়োগপ্রার্থী ফলাফলের বৈধতা নিয়ে রিট করেছেন। আজ আদালত রুল জারি করেছেন। রুলে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩ লঙ্ঘন করে ২৪ ডিসেম্বর ঘোষিত ফলাফল কেন আইনগত কর্তৃত্ববর্হিভূত ঘোষণা করা হবে না এবং একইসঙ্গে ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩ অনুসরণ করে নতুন ফলাফল কেন ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

এর আগে ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ওই বছরের ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশ থেকে ২৪ লাখ ৫ জন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রথম ধাপে ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মে, তৃতীয় ধাপে ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপে ২৮ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় ৫৫ হাজার ২৯৫ জন পাস করেন। গত ৬ অক্টোবর থেকে নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। মাসব্যাপী সারাদেশের সব জেলায় মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এ পরীক্ষায় ৬১ জেলায় ১৮ হাজার ১৪৭ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন শিক্ষকদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে বলা হয়েছে।