ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৩৫-এর সাথে এবার কর্মসংস্থানের দাবি

:: সিটি রিপোর্ট || প্রকাশ: ২০২০-০১-২০ ১৯:৩১:৪১

৩৫সহ ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাওয়া জন্য সারাদেশের অধিকাংশ জেলাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এমন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সাড়া না পেলে অতি শিগগিরই সারা দেশে ‘কর্মসংস্থান চাই এবং ৩৫ সহ ৪ দফা নিয়ে যুব গণঅভুত্থানের ডাক দেওয়া হবে।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্রকল্যাণ পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মুজাম্মেল মিয়াজী ক্যারিয়ারটাইমস২৪.কমকে এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, চাকরিতে আবেনের বয়সসীমা ৩৫ সহ ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ চেয়ে দেশর অধিকাংশ জেলাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে “স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আপনারা জানেন যে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫সহ ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে আমরা বরাবরই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করে আসছি।

আরও পড়ুন-

গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেবে ৩৫ প্রত্যাশীরা

সেই ধারাবাহিকতায় ১৯ ও ২০ জানুয়ারি সারা দেশব্যাপী ৩৫ সহ ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সরকার যদি এমন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পরেও ২৮ লক্ষ শিক্ষিত যুব সমাজকে কোন প্রকার সাড়া না দেয় তবে দেশব্যাপী অতি শিগগিরই যুব গণঅভুত্থানের ডাক দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ্। সরকারকে এটাও বলে দিচ্ছি যে, যুব সমাজে একবার জেগে উঠলে এর পরিনাম হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

আপনারা অবগত আছেন যে, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫সহ ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দীর্ঘ এক মাস যাবত কনকনে শীতের মধ্যে আমরা অনশন করেছি এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ১৯ এবং ২০ জানুয়ারি দেশব্যাপী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই দীর্ঘ এক মাস অনশনের পরেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে করে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে ২৮ লক্ষ শিক্ষিত যুব সমাজ। ২৮ লক্ষ শিক্ষিত যুব সমাজের উপরে এমন অবহেলা এবং অবজ্ঞার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছি এবং অতি শিগগিরই আমাদের দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হবো।

নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে চাকুরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি না করে সরকার ২৮ লক্ষ মেধাবীদের ঠকাচ্ছে এবং ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। মানববতার মা আজ আপনি কোথায়? আপনার সন্তানেরা আজ ৩৫সহ ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দীর্ঘ এক মাস অনশন করে আসছিল। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় আপনার পক্ষ থেকে কোন রকম সাড়া না পাওয়াতে সকলে আজ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছে। আমরা মাত্র চাকরিতে আবেদনের সুযোগ চেয়েছি।

আমরা এই দেশ এবং জাতির সেবা করে বাঁচতে চাই। দয়া করে আমাদের আবেদন করার সুযোগ দিন। বিশ্ব আপনাকে মানববতার মা হিসেবে আক্ষা দিলেও ২৮ লক্ষ শিক্ষিত যুব সমাজের প্রতি সুদৃষ্টি না দিলে এটা হবে এক মহা অমানবিক দৃষ্টান্ত। যেখানে বিশ্বে ১৬২ উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশ এবং ৫৭টি স্যাটেলাইট দেশে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বা এর উর্ধ্বে। সেখানে বাংলাদেশের শিক্ষিত যুব সমাজ ৩০ এ মৃত কেন? এটা অনেক কষ্টদায়ক বিষয়।

সেশনজটে যে আমরা ৪ বছর হারিয়েছে কে আমাদের ফিরিয়ে দিবে সে সময়গুলো? আজ বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ৫৭ থেকে ৭৩ হয়েছে তবে কেন আবেদনের বয়সীমা বাড়বে না? বাড়ানো হয়ে অবসরের বয়সসীমা কিন্তু বাড়ানো হয়নি আবেদনের বয়সসীমা। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চললে তবে কেন আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানো হবে না? বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ন্যায্য দাবির পক্ষে যদি একজনও হয় তবে সে দাবি মেনে নেওয়া হবে।’

আমরাতো প্রায় ২৮ লক্ষ শিক্ষিত যুব সমাজ। তবে কেন আমাদের দাবি মানা হবে না? পরিবার, সমাজ এবং জাতির কাছে যেহেতু আমরা আজ অবহেলিত তাই এই সার্টিফিকেটের মেয়াদহীন জীবন দিয়ে আমরা বেঁচে থাকতে চাই না। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অতি শিগগিরই আমাদের ৩৫ সহ ৪ দফা দাবি মেনে নিয়ে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর মুখে হাসি ফোঁটাবেন এবং তাঁর নাম জাতির কাছে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এমন শান্তিপূর্ন কর্মসূচীতে সাড়া না পেলে অতি শীঘ্রই সারা দেশজুড়ে কর্মসংস্থান চাই এবং ৩৫ সহ ৪ দফা নিয়ে যুব গণঅভুত্থানের ডাক দেওয়া হবে।

বিশেষ দফা: যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান চাই।
যৌক্তিক ৪ দফা দাবি হলো-
১। চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি করে ৩৫ বছরে উন্নীত করতে হবে।
২। অমানবিক আবেদন ফি কমিয়ে (৫০-১০০) টাকার মধ্যে নির্ধারন করতে হবে।
৩। নিয়োগ পরীক্ষাগুলো জেলা কিংবা বিভাগীয় পর্যায়ে নিতে হবে।
৪। ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন সহ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন প্রধান সমন্বয়ক মুজাম্মেল মিয়াজীসহ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অন্যান্য কেন্দ্রীয় সমন্বয়কবৃন্দ।

স্মারকলিপি প্রদানকারী অন্যান্য জেলা ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা হলেন- সুরাইয়া ইয়াসমিন(ঢাকা), রেশমা আক্তার (ঢাকা), সজীব আহমেদ, (গাজীপুর) উজ্জল সরকার (নেত্রকোনা), মুসাদ্দেক আলী রাসেল (কিশোরগন্জ), নাজিম উদ্দিন (সিলেট), দোলন বাসক (বগুড়া), আবু সায়েদ (ময়মনসিংস), জাকির হোসেন (ময়মনসিংহ), প্রশান্ত কুমার (বরিশাল), কামরুল হাসান (মৌলভীবাজার), জাহিদুল ইসলাম (নাটোর), হ্যাপী আক্তার (রংপুর), দিলিপ কুমার (দিনাজপুর), দিলিপ কুমার (দিনাজপুর), সুমন ইসলাম (পঞ্চগড়), জাকিরুল ইসলাম (ঠাকুরগাঁও), মনিরুজ্জামান (ঠাকুরগাঁও), তওসিফ( নোয়াখালী), রাজেশ মহাজন (চট্টগ্রাম), শাকিরুজ্জামান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), বিলকিস আক্তার (বাগেরহাট), মিজবা মিরু (কক্সবাজার), গাজী মাসুদ (চাঁদপুর)।