ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

জুনিয়রদের আতঙ্কে রাবির সিনিয়র শিক্ষার্থীরা

:: ওয়াসিফ রিয়াদ, রাবি || প্রকাশ: ২০২০-০১-২৩ ১৩:৫৭:৩২

‘র‌্যাগ’ একটি ভয়ঙ্কর শব্দ। র‌্যাগ সম্পর্কে জানেন না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। ক্যাম্পাসের সিনিয়ররা নবীনদের সাথে পরিচিত হওয়ার নামে তথাকথিত র‌্যাগের ভয়াবহতার কথা সকলের জানা। তবে রাজশাহী বিশ্বববিদ্যালয়ে (রাবি) দেখা গেছে র‌্যাগের উল্টা পীঠ।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান প্রণিত ‘র‌্যাগিং প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিল’ হওয়ার ঘোষণায় জুনিয়রদের আতঙ্কে রয়েছে বিশ্বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যম গুলোতে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে তাদের টাইমলাইন এবং গ্রুপগুলোতে এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরাও র‌্যাগের বিপক্ষে। তবে পরিচয় হওয়া মানেই র‌্যাগ নয়। র‌্যাগিং নিয়ে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সেহেতু ‘র‌্যাগিং’-এর সঠিক সংজ্ঞায়নও জরুরী।

র‌্যাগিং নিয়ে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামক একটি গ্রুপে পোস্ট করেছেন অনেকেই। সেখানে কমেন্টে বিষয়টি নিয়ে অনেককেই বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যায়। অনেকে আবার বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসিকতাও করেছে।

মামুন নামের একশিক্ষার্থী লিখেছেন ‘ওরে নবীন ওরে কাঁচা, নালিশ না করে আমাদের ছাত্রত্ব বাঁচা’ এই পোস্টের কমেন্টে অনেকেই প্রচলিত এই ব্যবস্থা নিয়ে হাস্যরসিকতা করেছেন।

‘নবীন শিক্ষার্থীদেরসঙ্গে পরিচয় হতে হলে তার বিভাগের সভাপতির অনুমতি নিতে হবে’ প্রশাসনের এরুপ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন আব্দুল মজিদ অন্তর নামক এক শিক্ষার্থী।
তার এই পোস্টেঅনেকেই এই বিষয়ের ওপর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। ওই পোস্টে জয় কুমার ঘোষ নামক এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাইমারি স্কুলের সাথে তুলনা করেছেন।

এদিকে, শিক্ষার্থীদেরমধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি বিশ্বিবদ্যালয়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

চারুকলার শিক্ষার্থী অর্পা পোদ্দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা চাইলেই নবীনদের সাথে পরিচিত হতে পারছিনা। এতে করে জুনিয়ররা আমাদেরকে তুমি করে সম্মধোন করছে। আমাদেরকে প্রথম বর্ষেরশিক্ষার্থী ভেবে নিজেদের সিনিয়র দাবি করছে। আমরা কিছুই বলতে পারছি না। র‌্যাগ হয়ে যায় কিনা এই ভয়ে তার সাথে কথা বলতেও ভয় হচ্ছে। প্রশাসনের এরুপ সিদ্ধান্তের কারনে আমরা সিনিয়র জুনিয়র পরিচয় পর্যন্ত হতে পারছি না। এতে করে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে দূরুত্ববৃৃদ্ধি পাচ্ছে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগেরশিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রত্ব বাঁচাতে জুনিয়রের ভয়ে থাকতে হচ্ছে সর্বদাই। পরিচয়হতে গিয়ে না জানি কখন র‌্যাগ হয়ে যায়। র‌্যাগিং-এর পক্ষে আমিও নই, তবে র‌্যাগিং-এর সঠিকসংজ্ঞা প্রদান করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

এবিষয়ে, জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘অপরিচিত কারো সাথে পরিচয় হওয়া দোষের কিছু নয়। তবে পরিচয়ের নামে কিছু শিক্ষার্থী নবীনদের নানা ভাবে হয়রানি করেথাকে। সেই সকল হয়রানি মূলক কর্মকাণ্ডই র‌্যাগের অর্ন্তভূক্ত। এবং যারা এই ধরনের অপ্রীতিকরকর্মকাণ্ডের সাথে জরিত থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’