ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণে তরুণরাই এগিয়ে

:: মিনহাজ আবেদিন, রাবি || প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৭ ১৮:২৭:৪৭

মুজিববর্ষকে নিয়ে চলছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানান পরিকল্পনা। মুজিববর্ষের ভাবনা নিয়ে লিখেছেন অনেকেই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণে তরুণরাই এগিয়ে। বাঙালিদের আশা ও প্রত্যাশা পূরণ করতে এ দেশের তরুণরাই কাজ করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সেই তরুণদের মধ্যে থেকে দেশের বেশকিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা নিয়ে আজকের আয়োজন। লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মিনহাজ আবেদিন

বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলার মা ও মাটির খাটি প্রেমিক

মোঃ আখতারুজ্জামান
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

তিনি বাংলাকে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সে স্বপ্ন শুধুই স্বপ্ন ছিল না। নিজেকেও তৈরী করেছিলেন সেই স্বপ্ন পূরনের হাল ধরার জন্য। আফসোস, আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি তাঁকে স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের জন্য সময় ও সুযোগ কোনটাই দেইনি। বঞ্চিত করেছি নিজেদের।

১৭ মার্চ ২০২০, বঙ্গবন্ধুর জন্মেরশতবর্ষ পূরণ হবে। এ উপলক্ষে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ও বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক গৃহীত “মুজিব বর্ষ” পালনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় এই আয়োজন আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করেছে। এর মাধ্যমে আমাদের জাতির পিতার জীবন ও আদর্শ সারাবিশ্বের জনগনের কাছে ছড়িয়ে পড়বে।

আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধু আমাদের দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য যা করে গেছেন মুজিব বর্ষ পালন তাঁর প্রতি আমাদের সামান্য কৃতজ্ঞতা মাত্র। যা প্রাকৃতিক, সত্য ও সুন্দর। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সরকার যেসব কর্মসূচী হাতে নিয়েছে তার পাশাপাশি মুজিব বর্ষে সর্বক্ষেত্রে মুজিবের আদর্শ ও চেতনার বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়াও জরুরী। তেমনিভাবে সকলের কাছে বঙ্গবন্ধুর সঠিক ইতিহাস ও জীবনাদর্শ তুলে ধরাও জরুরী।

এক মুজিব কিন্তু আমাদের সবার। আমাদের জাতীয় সত্তা। সুতরাং দলমত নির্বিশেষে আমাদের সকলের উচিত হবে মুজিবের আদর্শ ও চেতনায় নিজেদেরকে গড়ে তোলা। এবং সে অনুযায়ী কাজ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সহায়তা করা।

এক্ষেত্রে আমাদের মত তরুণদের আরও বেশী দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের উন্নতি এবং অগ্রগতির কেন্দ্রে আসতে হবে তরুনদের। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনায় বলিয়ান হয়ে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য নিজেদেরকে তৈরী করাই হোক মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার।

বাঙালিত্বকে ভালোবাসি,বাংলাদেশকে ভালোবাসি। সবাই মিলে গড়ে তুলি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।

 

মুজিববর্ষের শপথ হোক গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা

আব্দুজ জাহের নিশাদ
আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বাঙালির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসীম সাহসী অবদান রেখেছেন তা অতুলনীয়। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষ তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। স্বাধীনতাত্তোর তিন থেকে চার বছর যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশকে একটি স্বাবলম্বী দেশে পরিণত করার সফল প্রয়াস চালিয়েছেন তিনি। উন্নয়নে দেশকে স্বাবলম্বী করলেও তখনো কিন্তু গনতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

১৯৭১-২০২০সাল পর্যন্ত অর্থাৎ স্বাধীনতার ৪৯ বছরে এসেও দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির ব্যাপারে কারো প্রশ্ন না থাকলেও গনতন্ত্র কিন্তু আদৌ ঠিক-ই প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ ইতোপূর্বে বেশ কয়েকজন মাননীয় ও মহামান্য ব্যক্তিবর্গ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। হয়তোবা দেশের উন্নয়নে লক্ষ্য রেখে কিংবা স্ব- স্বার্থসিদ্ধির কারণে দেশের উন্নয়নে মোটামুটি মনোযোগ দিলেও গনতন্ত্রের দিকে কানই দেয়নি তেমন কেউ। তাই দেশের জনগণ উন্নয়নের হাতছানি পেলেও গনতান্ত্রিক অধিকার পরিপূর্ণভাবে পায়নি। অথচ দেশের উন্নয়নের গনতন্ত্র-ই প্রয়োজন বেশি।

তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের জনগণের শান্তি, সমতা ও অগ্রগতির জন্য উন্নয়নের চেয়ে গনতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শপথ হোক। মুজিববর্ষে শপথ করি, গনতান্ত্রিক দেশ গড়ি এই স্লোগান-ই মুখরিত হোক বাংলাদেশিদের মুখে।

বঙ্গবন্ধু ছিল একই মুদ্রার এপিট ওপিট

মো: তামজিদুল ইসলাম।
ইসলামিক ইস্টাডিজ বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অধীনে থাকা কালীন এদেশের প্রতিটি মানুষ নির্যাতিত, নিপীড়িত, পরাধীন ছিল। তখন এই বাংলার নিরীহ মানুষের পাশে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। যার আহ্বানে যোগাযোগহীন এই ভুমিতে লাখো মানুষ একযোগে নির্দ্বিধায় উৎসুক হয়ে সাড়া দিয়েছিল। যার ডাকে বাংলার মানুষ বিদেশী অস্ত্রের সামনে বুক পেতে দেয়। সে সময় স্বধীনতা আর বঙ্গবন্ধু ছিল একই মুদ্রার এপিট ওপিট।

তাঁর জন্মের জন্যই আজ আমরা স্বাধীন। রাংলার মানুষ যদি স্বার্থপর না হয়, তাঁর নাম বিক্রি করে খাবে না। ব্যাঙ্গ করবে না। দল মত রেখে বুকে ধারণ করবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।

১৯২০ সালে ১৭ মার্চ তারিখে এই হীরক সন্তান জম্মগ্রহণ করেছেন। তা আমাদের জন্য বিধাতার পক্ষ থেকে অনেক বড় উপহার। তাই তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

তরুণ প্রজন্মের প্রেরণার প্রতীক বঙ্গবন্ধু

হৃদয় কুমার ঘোষ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।

আমি বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি প্রেরণার প্রতীক ও আদর্শের নাম। আজ ১৭ মার্চ ২০২০, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। আজ তার আদর্শে আদর্শিত হয়ে তার সুযোগ্য কন্যা আমাদের আগলে রেখেছেন।

তবুও তার অনুপস্থিতি আমরা প্রতিনিয়ত টের পাচ্ছি। ছাত্র আন্দোলন থেকে ভাষা আন্দোলন, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম সকল কিছুই তাঁর নেতৃত্বের জন্য সফল হয়েছে। তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কাজ তাঁর কন্যার মাধ্যমে সফল হোক।
মুজিববর্ষের মাধ্যমে পুরো বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটি আদর্শের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তারুণ সমাজ হয়ে উঠুক উজ্জীবিত এই প্রত্যাশা রইল। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

 

বঙ্গবন্ধু একটি চেতনার নাম

সাইফুর রহমান
আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু একটি চেতনার নাম। বঙ্গবন্ধু একটা অদম্য শক্তির জয়গান। যার সাহসী অগ্নিঝরা ভাষনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ৭১ সালে বাংলার মানুষ তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ছিনিয়ে এনে ছিল একটুকরা লাল সবুজের বাংলাদেশে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অসীম সাহসীকতার কারনেই আজ আমরা বিশে^র বুকে বাংলাদেশকে দেখতে পেয়েছি। মহান ত্যাগের মধ্যে দিয়ে তিনি এই বাঙ্গালি জাতির জন্য অর্জন করে দিয়ে গেছেন একটি স্বাধীন দেশ।

আজ তিনি অনুপস্থিত ঠিকই কিন্তু এই সমাজের কাছে রেখে গেছেন স্বাধীনদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার হাজারো দৃষ্টান্ত। আমাদের তরুণ সমাজের জন্য দায়িত্ব থাকবে, তাঁকে অর্থবহ করে তোলা। তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাওয়া। তাই তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকল বাঙ্গালি দেশপ্রেমীদের অঙ্গীকার হোক একটাই, একটি সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।