ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০

হত্যার মিছিল থামছেনা কেন?

:: মো. ফরিদ উদ্দিন মাসুদ || প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৩ ২২:২৭:৫২

গত শুক্রবার (১লা মে) ভোরে ময়মনসিংহের নগরীর তিনকোণা পুকুরপাড় এলাকায় তৌহিদুল ইসলাম খান (২৪) নামের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

মেস মালিক জানান, “ভোরে তৌহিদুলের রুমে ঢুকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তার আত্মচিৎকারে শুনে গিয়ে দেখিসে রুমে পড়ে আছে।তখন তাকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখন ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।”

নিহত তৌহিদুল ইসলাম কবি কাজী নজরুল ইসলামের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার রামেশ্বরপুর এলাকায়।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আল-আমিন জানান,মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে তার পরিবার।তাকে উদ্দেশ্যেপ্রনোদিতভাব­ে না চুরি করার জন্য ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সাথে হত্যাকারীকে শনাক্ত ও আটক করতে কাজ করছে। (পত্রিকা থেকে সংগৃহীত)।

সেদিন আর দশটা ছেলের মতো তৌহিদও সেহরির জন্য অপেক্ষা করছিলো সেই সাথে তার টেবিলে সেহরির খাবারও অপেক্ষা করছিলো।কিন্তু তার সেহরি খাওয়া হয়নি।ঘাতকে ছুরিকাঘাতে সে পারি দেয় না ফেরার দেশে। আজও তার মা হয়তো তৌহিদের জন্য প্রতীক্ষায় রত যেমন করে পথ প্রতীক্ষা করে যোগ্য পথিকের। তৌহিদের মাঝে ছিলো পরিবারের একঝাক স্বপ্ন।একদিন হয়তো তিনিই পরিবারের কাণ্ডারী হতেন। এখন সে সব অতীত।

আজ তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই তথাকথিত লকডাউনের সুযোগে অপরাধীরা আজ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। শুধু তৌহিদ কেনো বিগত কয়েক দশকে আবু বকর, হাফিজুর মোল্লা,তনু, ত্বকীদের খুনিদের বিচার হয়নি।জানিনা এই সারিতে তৌহিদ যোগ হবে কিনা! এখন প্রশ্ন হচ্ছে দেশের বিচারব্যবস্থা কি সঠিকভাবে চলছে? দেশের আইন শৃঙখলা কি নিজস্ব গতিতে চলছে?

তৌহিদের বাবা কি অধ্যাপক আবুল কাসেমের মতো ছেলে হত্যার বিচার চাইবোনা বলবে?

এর আগে ফয়সল আরেফিন দ্বীপন হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক দুঃখ করে বলেছিলেন আমি ছেলে হত্যার বিচার চাইবোনা।বিচার চেয়ে কি হবে? অধ্যাপক অজয় রায় ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেনি।আমরা আর কত বিচার চাইবো? আমরা আর কত বিচারের জন্য অপেক্ষা করবো? আজ বিচারের বাণী মুখ থুবড়ে কান্না করে।তবুও আমরা আশায় বুক বেঁধে থাকবো যাতে তৌহিদের খুনের বিচার হয়।আর কোনো ফুল যেনো অকালে ঝড়ে না যায়।প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চাই।

বিশ্ব যখন ক্রান্তিলগ্নে, তখন ভেবেছি অপরাধ কমবে কিন্তু কমেনি। প্রকৃতপক্ষে করোনা ভাইরাস আমাদের নৈতিক ভাবে ভয় দেখাতে পারেনি।করোনা ভাইরাস আমাদের ভাবাতে পারেনি।আমাদের ভিতরের মনুষ্যত্ব জাগাতে পারেনি।গতকয়দিন ধরেই নিউজ দেখছি – স্বামী স্ত্রীকে, মা সন্তানকে, বন্ধু বন্ধুকে হত্যা করছে।আসলে আমরা এখনও মানুষ হতে পারিনি।আমরা উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছি কিন্তু সৎ হতে পারিনি।আমরা ভালবাসতে শিখিনি।আমরা কাছে আসতে শিখিনি।আমরা ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছি । এই হত্যার, অন্যায়ের পথ থেকে যদি ফিরে না আসতে পারি তবে জাতি হিসেবে আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন দূর্দিন।

লেখক:
শিক্ষার্থী
বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।