ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০

বাজেট ভাবনা

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব চায় শিক্ষার্থীরা

:: বেসিক আলি || প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৯ ১৬:৪৩:৫৮

দেশ এক সঙ্কটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে। এর মধ্যেই আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হবে। দেশের বাজেট নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীদের পাশাপাশি বরাবরই শিক্ষার্থীদের প্রবল আগ্রহ দেখা যায়। করোনাকালীন সময়ে কেমন হবে দেশের বাজেট? কোন খাতকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে? কোন খাতে বেশি বরাদ্দ দিলে ভালো হবে; সে সম্পর্কে মতামত দিয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়ে লিখেছেন- বেসিক আলি

সরকারের উচিত স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো

মেহেদী হাসান
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমান করোনা প্রকোপ চলাকালীন আমাদের স্বাস্থ্যখাতে জোর দেয়া উচিত। বহির্বিশ্বের সাথে তুলনা করলে আমরা দেখতে পাবো যে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে করোনা রোগ শনাক্ত করার টেস্টের হার খুবই কম। যা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি। তাই আমার মনে হয় স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলে হয়তো করোনা শনাক্তকরণের টেস্টের হার বাড়তে পারে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে। এছাড়া আমাদের দেশে খুব কম হাসপাতালেই করোনা ইউনিট রয়েছে। তাই সরকারিভাবে বড় পরিসরে প্রতিটি জেলায় একটি করে করোনা ইউনিট করাও জরুরি। তাই এই মহামারীর ভয়াল থাবায় আমাদের বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যখাতকে সমৃদ্ধশালী করার জন্য স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। তাই, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি সরকারের উচিত এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো।

স্বাস্থ্যের পাশাপাশি গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে

সাদ্দাম হোসেন
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতি বছর বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে সর্বাধিক পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয় যা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত অযৌক্তিক। যদি এবছর করোনা প্রকোপ চলাকালেও এমনটা করা হয় তবে তা আমাদের জন্য ইতিবাচক কোনো ফল বয়ে নিয়ে আসবে না৷ আমাদের এখন স্বাস্থ্যখাত ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিটা ক্ষেত্রেই বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ কম থাকে, যা খুবই নেতিবাচক একটি ব্যাপার। তাই স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে দেশের শিক্ষক ও গবেষকরা করোনা সংকটকালে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নে গবেষণার সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে কিভাবে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ লাভ করা যায়, অর্থনীতিকে কিভাবে আবার চাঙ্গা করে তোলা যায়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কি ধরনের পরিবর্তন আনয়ন আবশ্যক এ জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা হতে পারে। এছাড়া করোনার প্রতিষেধক ও কীট নিয়েও গবেষণা লরা জরুরি। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় গবেষণা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলে এবারের বাজেট ফলপ্রসু হবে বলে আমি মনে করি।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেশি রাখা উচিত

মো: রাশেদুল ইসলাম
সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগ
গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বেশ কয়েক মাস কেটে গেছে। বাংলাদেশেও করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর অাড়াই মাস হতে চললো। এরই মধ্যে চলতি অর্থবছর শেষ হয়ে যাচ্ছে। আগামী জুন মাসের শুরুতেই বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন ২০২০-২১। একজন শিক্ষার্থী হিসাবে আমার চাওয়া থাকবে আগামী বাজেট এ যেন স্বাস্থ্য খাতকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। কারণ বিগত দিনগুলোতে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে কি বেহাল দশা। সাধারণ মাস্কের জন্য আমাদের বাইরের দেশের সাহায্য নিতে হয়। তাছাড়া ডাক্তারদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা না থাকায় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতে দেখেছি। এ সকল কিছু বিবেচনা করে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেশি রাখা উচিত বলে আমি মনে করি। তবে প্রয়োজন বিবেচনা করে অন্যান্য খাতগুলোতেও যথেষ্ট বাজেট রাখা উচিত। যাতে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব চাই

সুজন চন্দ্র রায়
আইন বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিরসণন কৌশলী বাজেট চাই। আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করবে এটাই প্রত্যাশা। করোনার প্রকোপে যেসব খাতের অবস্থা বিপর্যস্ত সেসব খাতে ভর্তুকিসহ বিশেষ বাজেটের ব্যবস্থা করার প্রত্যাশা রইলো। পাশাপাশি বেকার সমস্যা সমাধানে সরকারকে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাই। বেকার সমস্যা সমাধানে সরকারি বিভিন্ন সেক্টরে নিয়োগ বৃদ্ধিসহ উদ্যোক্তা এবং স্বনির্ভর ব্যক্তিদের উৎসাহ এবং প্রণোদনা দেয়ার জন্য উক্ত বাজেটে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি কামনা করছি। এবারের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অনেকটাই সক্ষম হবে বলে আশা করছি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চাই আরও গুরুত্ব

মাসুদ পারভেজ
আরবি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমানে সারা পৃথিবীতে চলছে তথ্যপ্রযুক্তির ঝড়। অল্প বয়সী বাচ্চাও হয়ে যাচ্ছেন ধনী, হয়ে যাচ্ছেন উদ্যোক্তা। সেদিকে তাকিয়ে বাংলাদেশও অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। এই এগিয়ে যাওয়াটাকে ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমার প্রত্যাশা থাকবে প্রযুক্তিখাতে বাজেট আরো বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি প্রত্যাশা থাকবে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত যেসব ডিভাইস রয়েছে যেমন: ক্যামেরা, কম্পিউটার, স্মার্টফোন, মেমোরি কার্ড ইত্যাদি ডিভাইসের ভ্যাট হ্রাস করে তরুণ উদ্যোক্তাদের পথ মসৃণ করবে। একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীও যেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিজেকে এগিয়ে নিতে পারেন।

অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ নজর দিতে হবে

মো. নাহিদ হাসান
কৃষি অনুষদ
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

আসন্ন বাজেটে অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে। উন্নত স্বাস্থ্য সেবা একটি মৌলিক অধিকার।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের করুন অবস্থা করোনা ভাইরাসে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, তাই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেশি রাখতে হবে।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রায় দু মাস হলো মানুষ লকডাউনে আছে, অনেকে কর্মহীন হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাজেটে কর্মসংস্থান ও কৃষি খাতে গতি আনার মতো উপাদান থাকতে হবে। করোনায় ভঙ্গুর অর্থনীতি কে পুনর্গঠন করতে হবে।

সে দেশটি উন্নত, যে দেশটি গবেষণা খাতে অর্থ লগ্নি করে।আমাদের দেশে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট শিক্ষকরা পান না। তাই শিক্ষা ও গবেষনা খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো উচিত এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ যেসকল নিম্নবিত্ত ও গরীব ছাত্রছাত্রী আছে তাদের উপবৃত্তির আওতায় আনা হোক।