ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০

দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর চোখে আসন্ন বাজেট

:: শুভ্র অন্তিম || প্রকাশ: ২০২০-০৫-১৯ ২১:২০:৪১

দেশ এক সঙ্কটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে। এর মধ্যেই আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হবে। দেশের বাজেট নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবীদের পাশাপাশি বরাবরই শিক্ষার্থীদের প্রবল আগ্রহ দেখা যায়। করোনাকালীন সময়ে কেমন হবে দেশের বাজেট? কোন খাতকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে? কোন খাতে বেশি বরাদ্দ দিলে ভালো হবে; সে সম্পর্কে মতামত দিয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়ে লিখেছেন- শুভ্র অন্তিম

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে

সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী
মার্কেটিং বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এবারই সম্ভবত প্রথম ব্যতিক্রম একটি প্রেক্ষাপটে বাজেট ঘোষণা আসছে। এবার এমন এক সময়ে বাজেট ঘোষণা আসবে যখন অদৃশ্য এক শক্তি করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব টালমাটাল। ভয়াল করোনা ভাইরাস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের স্বাস্থ্য খাত কতটা নাজুক। সঙ্গত কারণেই আসন্ন অর্থ বছরে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। মোট জাতীয় বাজেটের ৬ শতাংশের বেশি কখনোই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের প্রতি এই অবমূল্যায়নের কারণেই করোনাকালে নাগরিকদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে। আসন্ন অর্থবছরে এই খাতে কমপক্ষে ১২ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করার জন্য রাষ্ট্রের নিকট দাবি জানাই।

স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি জরুরী। করোনা শিক্ষা ক্ষেত্রে ফেলেছে বিপুল নেতিবাচক প্রভাব। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত গবেষণা বরাদ্দ না থাকায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যখন করোনার ভেকসিন আবিষ্কারের প্রতিযোগিতায় নেমেছে তখন আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হ্যান্ড সেনিটাইজার বানিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। তাই শিক্ষাখাতে গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

করোনার ভয়াবহতার কারণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গত ২ মাস ধরে বন্ধ, ফলে ব্যাহত হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রম, বাড়ছে সেশনজট। অনলাইন ক্লাস পরিচালনার মাধ্যমে এই সেশনজটের ধাক্কা কিছুটা কমানো যেতো; কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সেবার অভাবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না। তাই শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে সমন্বয় করে এই সেক্টরে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোন দুর্যোগের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার মাধ্যমে সেশনজটের ভয়াবহতা হতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা যায়।

শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ২০১৯-২০ বছরে ১৮.১ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। চলমায় বাস্তবতায় আসন্ন অর্থ বছরে এ খাতের সংকট কাটাতে অন্তত বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ করা হোক।

জিডিপির শতাংশ হিসাবে খাতে বরাদ্দ ১ শতাংশের কম।

সাইকি মিজান বৃষ্টি
ফার্মেসি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে আসন্ন অর্থ বছরে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত স্বাস্থ্যখাতকে। বিগত অর্থ বছরের বাজেটের ৬ শতাংশের বেশি কখনোই এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। জিডিপির শতাংশ হিসাবে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ১ শতাংশ অনেক কম।

এই অবহেলার ফলশ্রুতিতে করোনা মহামারীতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতি দৃশ্যমান। উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের পাশাপাশি ডাক্তার, স্নাতক ফার্মাসিস্ট ও নার্সের সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অতীব জরুরী। কিন্তু এখনো স্নাতক ফার্মাসিস্ট নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে কোনো উদ্যোগ ও বাস্তবায়নমুখী কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে না। ফলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ।

একই সাথে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এই লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে শিক্ষা ও গবেষণা খাতকে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

সর্বোপরি,স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণা খাতকে উল্লেখযোগ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত যা যেকোনো ক্রান্তিলগ্ন বা বিশ্বে আমাদের অবস্থান সুনিশ্চিত করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।