ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০

বাজেটে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য বরাদ্দ দাবি

:: সিটি রিপোর্ট || প্রকাশ: ২০২০-০৫-২১ ১৫:৫১:৪৯

২০২০-২১ অর্থ বছরে বাদপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের  জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

সম্প্রতি খোলা চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর এই আবেদন করেন সংগঠনটির সভাপতি মোঃ মামুনুর রশিদ খোকন। এতে স্বাক্ষর করেন মহাসচিব মোঃ আ.স.ম জাফর ইকবাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফিরোজ উদ্দিন।

চিঠিতে বলা হয়া হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে জনজীবন আজ হুমকির মুখে। দীর্ঘ সময় মানুষের মধ্যে কর্ম না থাকায় নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে  মধ্যবিত্ত সকল শ্রেণীর  মানুষের মধ্যে আর্থিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে এই অনিশ্চয়তা দূর করতে নেওয়া হয়েছে নানান প্রচেষ্টা কখনো প্রণোদনা , কখনো খাদ্য সহায়তা, কখনো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর  মানবিক সহায়তায় ভুক্ত ভোগির মোবাইলে টাকা পৌঁছনো নিশ্চিত করা। এমন পরিস্থিতিতে সবচে প্রশাংসিত  হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।পাশাপাশি করোনা মুহূর্তে সবচে বেশি কষ্টে দিন যাপন করবেন সরকারি বেতন ছাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  শিক্ষকরা ।সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী তরফ থেকে কিছু না কিছু জোঁটলেও , এখনো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কপালে জোঁটনি কোন কিছু।অথচ আর কদিন পর ঈদু-উল ফিতর।দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষকতা করলেও আজও জোঁটেনি তাদের ঘরে ঈদের আনন্দ।প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রণোদনা আবেদন করেও এখন পর্যন্ত জোঁটেনি প্রণোদনা।তাই আগামী বাজেটে এই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কাছে।সরকারের এই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করতে কত টাকা লাগবে তাও তুলে ধরেছেন তারা।

জাতীয় প্রে-স্কেলে ২০১৫ জাতীকরণ থেকে বাদপড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জন্য সরকারকে কত টাকা বরাদ্দ দিতে হবে তারও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তারা।

সেখানে মূল বেতন- ৯৭০০ টাকা,বাড়ি ভাড়া বাবদ ৪৮৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ১৫০০, টিফিন ভাতা ২০০ টাকাসহ  মোট ১৬ হাজার ২৫০ টাকা। এরমধ্যে কল্যাণ কর্তন যাবে ৫০ টাকা। একজন শিক্ষক পাবেন নীট ১৬ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসাবে ১৬৬৩৬ জন শিক্ষক পাবেন ২৬ কোটি ৯৫ লাখ ৩ হাজার ২০০টাকা ।

এছাড়া নবর্বষ উৎসব ভাতা, ঈদ উৎসব ভাতাসহ মোট ৩৫৮কোটি ৯০ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৪০ টাকা দরকার হয়।

শিক্ষকদের দাবি, করোনা মুহূর্তে সবচে বেশি অসহায় জীবন যাপন করছে তারা। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা বা অনুদান না থাকায় মা- বাবা, স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন, নিয়ে বিপাকে পড়েছে তার। শিক্ষকতা পেশাকে মহান পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ায় কোথায় হাত পাততে পারছেন না তারা। তাই অনেক সময় অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হয় তাদের। তাই এই অর্থ বছরে তাদের বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন তারা।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ মামুনুর রশিদ খোকন এ সম্পর্কে ক্যারিয়ারটাইমস২৪.কমকে বলেন, আসন্নযে  ২০২০-২১ অর্থ বছরে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ ৯ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা হবে যা শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বিশাল ভুমিকা রাখবে। কিন্তু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ থাকছে কি না তা জানা নাই। এ জন্য আমরা সরকার প্রধানের কাছে বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আবেদন জানাই। একই সাথে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ চাই।