ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনা: অনলাইন ক্লাস ও ক্যাম্পাস খোলা নিয়ে যা ভাবছে শিক্ষার্থীরা

:: শুভ্র অন্তিম || প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৭ ১৮:২৪:৪৬

চলমান করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানন। দীর্ঘ বন্ধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একদিকে যেমন সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনি ক্যাম্পাস খুললেও করোনা সংক্রমিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় অনলাইন ক্লাস চালু করা বা ক্যাম্পাস খোলা জরুরি কিনা সে বিষয়ে নানা মতামত দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির সহযোগিতায় লিখেছেন শুভ্র অন্তিম

অনেকের মাল্টিমিডিয়া ফোন কেনার সামর্থ্য নেই

আল আমিন বাপ্পি
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

কোভিড-১৯ আমাদের দেশে রূপ বদলালেও ধীরে ধীরে মরণব্যাধিতে পরিণত হচ্ছে। এই সময়ে সামাজিক দূরত্বটাই মূল প্রতিপাদ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে আমি মনে করি সরকারের আরেকটু ভাবা উচিৎ। কেননা আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিভাগের তো পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রেণিকক্ষও নেই। নিয়মিত ক্লাস করতেই সেখানে এক ব্রেঞ্চে ৪-৫ জন করে বসতে হচ্ছে। হলে যারা থাকেন তারাও এক রুমে ৪ জনের সিটে ৮-১০ জন আছে। গণরুম গুলোতে আরও বেশী। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা একত্রিত হবে। হতে পারে কেউ তার বাড়ি থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে আসবে। যার ফলে তার রুমমেট, ক্লাসমেট সকলই আক্রান্ত হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার বা চিকিৎসা সুবিধা। স্কুল-কলেজে তো ডাক্তারই নেই।এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষণা ধর্মী বিভাগ কিংবা অনার্স/মাস্টার্সের থিসিস গ্রুপ তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বল্প পরিসরে খোলা যেতে পারে। যেমন অনেক বিভাগই এই মূহুর্তে Covid-19 এর চিকিৎসা ও প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণা করার সক্ষমতা রাখে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এই বিভাগগুলোর গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যেতে পারে। বাদ বাকি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।

তবে অনলাইন শিক্ষা দানের বিষয়টি ভাবা উচিত। অনেকে শিক্ষার্থীই দরিদ্র। মাল্টিমিডিয়া ফোন কেনার সামর্থ্য নেই। ডাটা কেনার সামর্থ্য নেই। তবে বিভাগের খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীদের এই দূরাবস্থা। বিভাগের পক্ষ থেকে যাদের মাল্টিমিডিয়া ফোন নেই এবং ডাটা কেনার সামর্থ্য নেই তাদেরকে ফোন এবং ডাটা ক্রয় করার জন্য অনুদান দেওয়া যেতে পারে।

২.স্কুল-কলেজ গুলোর ক্লাস টেলিভিশনের মাধ্যমে নেওয়া যেতে পারে। জীবন যেখানে সংকটাপন্ন সেখানে পরীক্ষা ছাড়াই গ্রেডিং করা উচিৎ। তবে অনলাইন বা টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিৎ।

সর্বোপরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। কেননা আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পাঠদানের জন্যই পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে ক্লাস করাটা দুঃস্বপ্নের মত। এমতাবস্থায় দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা পাঠদান চালিয়ে যাওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক।

একজনের মাধ্যমে অনেকেই আক্রান্ত হতে পারে

সূচনা আফরোজ
ব্যাবস্থাপনা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

করোনা ইতিমধ্যে সারাদেশে বিস্তৃতি লাভ করেছে। এই অবস্থায় যদি ক্যাম্পাস খোলা হয় তাহলে সবাইকে হলে ফিরতে হবে। ফেরার সময় গণপরিবহন থেকে যেকেউ আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যাক্তি ক্লাসে অংশগ্রহণ করলে তার থেকে অনেকেই আক্রান্ত হতে পারে। পাশাপাশি হলগুলোতে যেহেতু গণরুমে একসাথে অনেকে থাকে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অনেককেই আক্রান্ত হতে পারে। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাবে। একসাথে এত জনকে চিকিৎসা সেবা দেওয়াও সম্ভব হবে না। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আর যারা এখনো গ্রামে আছে তাদের মধ্যে কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত। ক্যাম্পাস খুললে তারা যদি ক্যাম্পাসে আসে তাদের থেকেও অনেকেই আক্রান্ত হতে পারে। তাই ক্লাস শুরু না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করি।

অনলাইন শিক্ষায় আমরা অভ্যস্ত না

সাইকি মিজান বৃষ্টি
ফার্মেসি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের জন্য গত ১৭ ই মার্চ থেকে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি সহ আগামী ৩০শে মে পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাস বন্ধ রয়েছে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এত দীর্ঘ ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান, পরীক্ষা, ল্যাবওয়ার্ক সহ সকল শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ। এই অনাকাঙ্খিত করোনার প্রাদুর্ভাব দেশের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে সেশনজট সৃষ্টি প্রায় নিশ্চিত। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করার নির্দেশনা দিলে বর্তমান মহামারী পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। যেখানে সরকার নিরাপদ দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের  সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাঠামো অত্যন্ত অনুপযোগী এই সংক্রমণ রোধ করে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে।

এমতাবস্থায়, বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি আমাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর অনলাইন শিক্ষা বা ই-লার্নিং পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্যমতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ “Zoom Application” ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষকরা অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবেন। এক্ষেত্রে বিডিয়েন(বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক) সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করবে।

সমস্যা তবু ও থেকে যায়, কারণ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনলাইন কার্যক্রমের সাথে অভ্যস্ত নয়, অনেক শিক্ষকই প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের অসুবিধা, ইন্টারনেট সেবা, ইন্টারনেট ভিত্তিক শিক্ষাখরচ যা ই-লার্নিং এর অন্তরায়। অস্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দুর্বল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অনলাইন শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করার ও সমূহ সম্ভাবনা থাকবে। পাশাপাশি সরকারি  বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত পরিবারের ফলে আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে না, অনেকেরই নেই অনলাইন শিক্ষায় অংশগ্রহনের মতো মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ। অন্যদিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিভাইসগুলোতে উচ্চ ইন্টারনেট গতিসম্পন্ন সংযোগ প্রয়োজন যা প্রত্যন্ত ও পার্বত্য অঞ্চলে দূরূহ।
এমতাবস্থায় চলমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো চালুর বিষয়ে সরকারের সার্বিক বিষয় গুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা সাপেক্ষে উচ্চস্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত সকল শিক্ষার্থীদের সমমানের অংশগ্রহণ ও জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত করবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা শ্রেয়

রবিউল ইসলাম
মার্কেটিং বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি  বেড়েই যাচ্ছে। সীমিত আকারে লকডাউন শিথিল করলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা বা বন্ধ রাখা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত প্রকাশ হচ্ছে। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতিও অবনতি অর্থাৎ রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা শ্রেয় মনে করছি।

জাতি রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি নিষেধ পালন করার সক্ষমতা নেই। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বেন। পরবর্তীতে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে অনিশ্চিত জীবনের সম্মুখীন হতে পারে। জীবন সংশয় থাকায় শিক্ষক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিত হার বেড়ে যাবে। অনেক শিক্ষার্থী পাঠদান থেকে বঞ্চিত হবেন এবং সিলেবাস সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হবেন। যার দরুন পরীক্ষার  ফলাফলে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মৃত্যু পুরির বাসিন্দা হতে বেশি সময় লাগবে না। যদি কোন শ্রেণিতে অথবা বিভাগে করোনা রোগী সনাক্ত হয় তাহলে সেই শ্রেণি বা বিভাগ লকডাউন করলে পরবর্তীতে হলে, মেসে বা এলাকায় স্বাভাবিক জীবন পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে যেটির কারনে শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে।

আশাকরি, খুব শিগগিরই বিশ্ব সুস্থ হয়ে যাবে সেই সাথে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। হ্যাঁ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা ব্যবস্থায় জটিল রুপ ধারন করছে এবং রাষ্ট্র ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। শিক্ষা জীবনের ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে যাবে, গবেষণায় গ্যাপ হবে, সেশনজোটের ভোগান্তিতে পড়বে, পড়াশোনায় দূরত্ব তৈরি হবে, সপ্ন পূরনে ব্যাহত হবে। সেই সাথে চাকরি পাওয়ার অনিশ্চয়তা বেড়ে যাবে। অর্থনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলেও ক্ষতির রেখা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।   জীবন থাকলে শিক্ষা গ্রহন করা যাবে কিন্তু বেঁচে না থাকলে এই শিক্ষার কোন মূল্য নেই। শিক্ষক শিক্ষার্থী রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ যারা জাতি রাষ্ট্র উন্নয়নে সর্বদা ভুমিকা পালন করছে। অনিশ্চিত বড় ক্ষতির চেয়ে ছোট ক্ষতি মেনে নেওয়াই সর্বোত্তম

ক্লাস শুরু না হওয়ার ব্যাপারে মতামত দিচ্ছি

ফারহান শাহরিয়ার খান
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ক্লাস শুরু না হলে সেশনজটে পড়তে হবে কিন্তু একদিক দিয়ে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস এখন অফ এবং সবাই এই সময়টুকু পিছিয়ে যাবো। কিন্তু এই পড়াশুনার জন্য আমাদের আগে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার চিন্তা করতে হবে। আর এই সুস্থতার জন্য আপাতত দূরত্ব বজার রাখা আর ঘরে থাকা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নাই। আবার ঘরে বসে ক্লাস করলে আমরা প্র‍্যাক্টিকেলি ক্লাস করে যা যা শিখতে পারবো তা সম্ভব না অনলাইনে! আবার অনেকে যারা গ্রামে বা মফস্বল শহরে থাকে তাদের জন্য এটা কষ্টকর আর অনেকের ওয়াইফাইও নাই বাসায়। তাই মোবাইল ডাটা ব্যবহার করে ক্লাস করাটা অনেক খরচের ব্যাপার! এ জন্যই ক্লাস শুরু না হওয়ার ব্যাপারে মতামত দিচ্ছি।

ক্লাস চালু হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে

প্রজ্ঞা পারমিতা সেন
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বলা হচ্ছে ক্লাস শুরু হলে প্রোপার স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে, কিন্তু আসলেই সেটা আদতে কতটুকু মানা হবে তা সবাই জানে। এখন এত রেস্ট্রিকশনই অনেকে মানছে না, করোনাভাইরাসকে আমলেই নিচ্ছে না। আর আমরা তার ফলাফল দেখছিও। দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, তাই এই সময়ে ক্লাস চালু হলে সামগ্রিকভাবে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। চবি ক্যাম্পাস শহর থেকে দূরে হওয়ায় আমাদের অনেক কষ্ট করে শাটল কিংবা বাসে করে ক্যাম্পাসে যেতে হয়। অন্যান্য জায়গায় নিরাপদ দূরুত্ব বজায় থাকলেও শাটল ট্রেন আর বাসে তা মেনে চলা একেবারেই অসম্ভব। কেননা শিক্ষার্থীদের তুলনায়  শাটলের বগি আর বাসের সংখ্যা অপ্রতুল। এই পরিস্থিতিতে চবিতে ক্লাস না হলেই প্রকৃতপক্ষে অনেক ভাল হবে। কিন্তু এভাবে আর কয়দিন,  এই বিরাট গ্যাপ টা আমাদের পড়ালেখাকে এফেক্ট করবে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন- ঢাবি, রাবি, চবি এবং বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি।