ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনা: বিকল্প ক্লাসের কথা ভাবছেন ঢাবির দুই শিক্ষক

:: আসিফ খান || প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৮ ১৭:২৮:৩৮

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। সেশনজট এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে ক্লাস নিলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এদিক দিয়ে এখনো পিছিয়ে। দীর্ঘ বন্ধের কারণে একদিকে যেমন সেশনজটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে অন্যদিকে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা উচিত হবেনা বলে মত দিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেশনজট এড়াতে অনলাইন ক্লাসের কথাও ভাবছেন কেউ কেউ।

করোনাকালীন এই সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে অনলাইন বিকল্প মাধ্যম হতে পারে বলে মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক। তারা বলছেন, সঙ্কট মোকাবেলায় প্রযোজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে অনলাইন ক্লাসে যাওয়া উচিত। এজন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয় করতে বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকার সহযোগিতা করলে বিষয়টি সহজ হবে। শিক্ষকদ্বয়ের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন ঢাবি প্রতিনিধি আসিফ খান

সম্ভব হলে ভার্চুয়াল ক্লাসে ফেরা উচিত

নাজমুল হাসান
সহকারী অধ্যাপক
ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

যেভাবে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে তাতে করে মনে হচ্ছে আমরা খুব দ্রুত ফিজিকাল ক্লাসে ফিরতে পারবো না এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্যাম্পাস খোলাটাও ঠিক হবে না। কারণ আমরা জানি যে আমাদের যে হলগুলো রয়েছে সেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা খুবই গাদাগাদি করে থাকে বিশেষ করে ছাত্রদের হলের পরিস্থিতি খুবই করুণ। গণরুমের কথা আমরা জানি যে এক রুমে গাদাগাদি করে থাকে ২০-৩০ জনের মতো। সেই ক্ষেত্রে এই ধরনের ইনফেকশন ছড়ানোর যদি নূন্যতম সম্ভাবনাও থাকে তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কোনভাবেই খোলা উচিত হবে না।

আমার মনে হচ্ছে ঈদ-উল-আযহার আগে আমরা ফিজিক্যালি ক্লাসে উপস্থিত হতে পারব না। যদি ঈদ-উল-আযহার আগে ফিরতে না পারি তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে ভাবতে হবে। যদি সময় এভাবে যেতে থাকে তাহলে শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবেনা। এখানে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বা ইনভেস্টমেন্ট করা উচিত যেন অদূর ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আমরা যেন অনলাইন ক্লাস গুলো শুরু করতে পারি বা নিয়মিত করতে পারি।
যাতে করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয় সেজন্য ইনভেস্টমেন্ট দরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি এমন উদ্যোগ নেয় তাহলে দেশের বাকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তারাও এই সিস্টেমের আওতায় চলে আসবে। আমার জানামতে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২১ সালের আগে ফিজিক্যাল ক্লাসে উপস্থিত হতে পারবেনা এই করোনা সংক্রমণের কারণে। আমাদের দেশে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং এটি এখন ঊর্ধ্বমুখী। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে সংক্রমণের সংখ্যা থাকবে সর্বোচ্চ এই আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমার মনে হয় যত দ্রুত সম্ভব অনলাইন ক্লাসে ফেরার ব্যবস্থা করা উচিত। সেক্ষেত্রে যদি কিছু শিক্ষার্থীর অসুবিধা থাকে তাহলে তাদেরকে সাপোর্ট দিতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোন দিয়ে বা সরকার থেকে লোন সিস্টেম বা টেলিকম অপারেটরদের সাথে কন্ট্রাক্ট এর মাধ্যমে বা যেই ফর্মেই হোক আমাদের যত দ্রুত সম্ভব ভার্চুয়াল ক্লাসে ফেরা উচিত বলে আমি মনে করি।

করোনাকালীন ও পরবর্তী শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন

শান্তা তাওহিদা
চেয়ারপার্সন
কমিউনিকেশন ডিজওর্ডারস বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না! কারণ শ্রেণিকক্ষে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ কবে হবে তা পুরোপুরি অনিশ্চিত l
শিক্ষাঙ্গনের এই স্থবির অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দিয়ে থাকলেও ঢাবি শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা  ভিন্ন l শিক্ষার্থীদের আর্থিক অসুবিধা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের ধীরগতির ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তি এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জl
তবে এ কথাও সত্যি যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেখানে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে যদি করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে দেশের শীর্ষতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও বিকল্প শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে হবে!

কেমন হবে করোনাকালীন ও করোনা পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা পদ্ধতি তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন! সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী সমাধানের পথ ভাবতে হবে!

প্রসঙ্গত, কমিউনিকেশন ডিজওর্ডারস বিভাগের নিয়মিত অনার্স ও মাস্টার্স মিলে ১৮২ জন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে অনলাইনে মতামত দিয়েছে ১৫৬ জন। অনলাইন ক্লাস করার বিষয়ে মতামত দেয়া ১৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকায় বসবাস করে মাত্র ৪৭ জন। ৯৬.৮% শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন থাকলেও মোবাইল ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনে অনলাইন ক্লাসের জন্য ব্যয় বহন করা সম্ভব নয় জানিয়েছে ৩৩.৮% শিক্ষার্থী। অনলাইন ক্লাসের পক্ষে মত দিয়েছে ৫৯.৫% শিক্ষার্থী এবং বাকী ৪০.৫ % শিক্ষার্থী বিপক্ষে মত দিয়েছে। কারণ হিসেবে নেট প্যাকেজের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয় ছাড়াও তাদের এলাকায় ধীর গতির ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যার দিকটি বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন- ক্যাম্পাস না খোলার পক্ষে ঢাবি শিক্ষার্থীরা