ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনাকালে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ঈদ অনুভূতি

:: শামস্ জেবিন || প্রকাশ: ২০২০-০৫-৩০ ২০:৫০:৪৬

মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় প্রধান উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। রমজানের এক মাস রোজা পালন শেষে মুসলমানরা অপেক্ষা করে ঈদের দিনের জন্য। প্রতিবছর মানুষ মধ্যে উদযাপনের জন্য আনন্দের সাথে সকল প্রস্তুতির মধ্যে থাকে অন্য রকম আমেজ। করোনাভাইরাসের কারণে বিগত বছরের ঈদের চেয়ে এবারের ঈদ একেবারেই আলাদা ছিলো। ছিলো না কোন উৎসবের আমেজ। ঘরবন্দী থেকে ঈদ উদযাপনের স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকেও বিরত ছিলো পুরো দেশবাসী।

করোনাকালের শিক্ষার্থীদের কেমন কেটেছে এবারে ঈদ? মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে অঘোষিত লকডাউনে ব্যতিক্রম ঈদের অনুভূতি কেমন ছিলো তা জানিয়েছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। তাদের সাথে কথা বলে লিখেছেন-শামস্ জেবিন

দুঃসময়ে একটুখানি প্রশান্তি হয়ে এল ‘ব্যতিক্রমী ঈদ’

এস কে ইজাজুর রহমান
চতুর্থ বর্ষ
আইন বিভাগ

ঈদের সব থেকে বড় তাৎপর্য কোথায়? কারো কাছে মানবিক সুন্দর অনুভূতিগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়া, কারো কাছে নিজের আপনজনকে সময় দেওয়া, কারো কারো কাছে নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা। দিনটিতে কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে যায়, কেউ বন্ধুদের সাথে সাধারণত বের হয় দল বেঁধে, আত্মীয় সজনের বাসায় যায়। এবারের ঈদটি ছিল ব্যতিক্রম আমার জন্য অন্য সবাই মতই হয়ত৷ তবে অন্য সময়ের মত ঈদ উদযাপন ব্যহত হয়েছে বলে এমন নয় ঈদ আসেনি মানসিক প্রশান্তি, ভালোলাগা ও অসীম ভালবাসা নিয়ে৷ ঈদের দিন সকালে বাড়ির উঠানে ঈদের সালাত আদায় করেছি পরিবারের সবাই, প্রতিবেশী বড় ভাই,চাচার সাথে অবশ্যই দূরত্ব বজায় রেখে৷ অন্যবারের মত কোলাকুলি, মুসাফা করা না হলেও নামাজ শেষে সবার মুখে ‘ঈদ’এর হাসি ছিল। মা বরাবরের মত রান্নাঘরে সময় দিয়েছে সবথেকে বেশি৷ বন্ধুদের সাথে দল বেঁধে বের হওয়া হয়নি ঠিক ই,কিন্তু দল বেঁধে ভিডিও কলে অনেক সময় কথা হয়েছে।বাড়ির আশেপাশে কে কি করছে খোঁজ নিয়েছি৷ বিকাশে মামাদের কাছ থেকে সালামি পেয়েছি। আত্মীয়দের ফোন দিয়ে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। ছোট ভাই বোনরা বরাবরের মত সালামি দাবি করলেও কিপটামি করেছি৷ পরিবারের সাথে সারাদিন খাওয়াদাওয়া করেছি, গান শুনেছি, রাত করে সবাই মিলে মুভি দেখেছি৷ এরকম ছিল আমার এবারের ইদ।

ঈদ আনন্দ একজন ধনী আরেকজন গরীবের উপর সমানভাবে প্রভাব ফেলে হাজারো সীমাবদ্ধতার মধ্যেও, তেমনি ভাবে যতই করোনাতে ঘর-বন্দী থাকি না কেন ঈদের আনন্দ তার বিশেষত্ব নিয়েই সবার ঘরে ঘরে কমবেশি পৌঁছে গেছে৷ এই রকম দুঃসময়ে এই দিন বা এরকম উৎসব মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে জীবনের প্রয়োজনীয়তা দেখায়, আত্মবিশ্বাস ও সহাবস্থান কে জাগিয়ে তোলে।

এবারের ঈদ উৎসব ছিলো আতঙ্ক নিয়ে কাটানো সময়, প্রার্থনায় ছিলো স্বাভাবিক জীবনধারা

সাইকি মিজান বৃষ্টি
তৃতীয় বর্ষ
ফার্মেসি বিভাগ

পুরো পৃথিবী থমকে আছে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই মহামারী থেকে সুরক্ষা পেতে নাগরিকদের ঘরবন্দি থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে ঘরবন্দি।
তাই, এবারের ঈদ সত্যি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। উৎসবের আমেজের মধ্যে একটা আতঙ্ক নিয়ে কাটানো সময়। অন্যান্য বারের ঈদের উৎসবে চাঁদরাত থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত থাকতো টানা ব্যস্ততা আর উৎসবমুখর পরিবেশ। কাজিনদের সাথে মেহেদী উৎসব, ঈদের দিন ভোর থেকে বাবাকে গুছিয়ে দেওয়া ঈদের জামাতের জন্য। আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশীদের ভিড় বাসায়।কিন্তু এবারের ঈদে সেসব কিছুই নাই। মুঠোফোন কিংবা অনলাইনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের খুশি টুকু কুড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা। তবুও ঘরবন্দি কাটালেও এটুকু তৃপ্তি যে, আমরা নিরাপদ আছি।স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চেলে ঘরবন্দি থাকার মাধ্যমে নিজেদের ও অন্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে কিছুটা। ঈদের দিনের বড় প্রার্থনা ছিলো, “পৃথিবী আগের মতো নিজের গতিধারায় ফিরে আসুক, জনজীবন আবার ফিরে পাক তাদের স্বাভাবিক জীবনধারা।”

নতুন অভিজ্ঞতায় পুরনো আনন্দ

অনিক চৌধুরী তপু
দ্বিতীয় বর্ষ
একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ

ছোটবেলা থেকেই অন্য সবার মত আমার কাছেও ঈদের দিন মানেই ছিল বছরের সব চাইতে আনন্দের দিন। নতুন পাঞ্জাবি পড়ে নামাজে যাওয়া, আত্মীয়স্বজনের বাসায় ঘুরতে যাওয়া ও বন্ধুবান্ধবের সাথে ঘুরতে বেড় হওয়া ছিল ঈদের দিনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট অঘোষিত লকডাউনের কারণে ঈদের সেইসব আনন্দ একেবারে ছিল না বললেই চলে। তাই অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই কেটেছে আমার এবারের ঈদ। বাসায় ঈদের নামাজ আদায় ও অন্যান্য ছুটির দিনের বাসার সবার সাথে বসে খাবার খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, আমার এবারের ঈদ আয়োজন। তবে সেইসাথে লকডাউনের ফলে সৃষ্ট্য অতিরিক্ত অনলাইন নির্ভরতার কারণে ঈদের দিন ফেসবুকে রম্য বিতর্ক শোনা ও পরিচিত বড় ভাই-বোনদের কাছ থেকে অনলাইন মাধ্যমে সালামি পাওয়ার মত নতুন অভিজ্ঞতাগুলোও ভালোই উপভোগ্য ছিল আমার কাছে এবারের ঈদে।

পরিবারের সাথে অন্যরকম ঈদ উদযাপন

আঞ্জুমান আরা
তৃতীয় বর্ষ
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

মহামারীর করোনায় এই বন্দী সময়টা আরও দীর্ঘতম হচ্ছে। এর মধ্যে চলে গেলো ঈদ-উল-ফিতরের মত বড় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এমন ঈদ আমাদের জন্য প্রথম।যেখানে বেশিরভাগ মানুষই ছিলো নিজ গৃহে বন্দী।আমার ঈদ ও ঠিক তেমনি কেটেছে। ঘরের কাজে আম্মু কে সাহায্য করে বোনদের সাথে খুনসুটি করে খুব ভালো সময়ই কেটেছে। বরং অন্য ঈদ গুলোতে বাসায় মেহমানদের চাপে, এবং আমাদের বেড়াতে যাওয়া উপলক্ষে পরিবার কে সময় দিতে পারিনি বললেই চলে।প্রায় ৪/৫ বছর পরে এইবার বাসার ৫ জন মিলে ঈদের দিন সকালে এক টেবিলে বসে খাবার খেয়েছি।
ঈদের দিন সারাদিন কি করেছি তার ছোট্ট একটা গল্প।

সকাল বেলা আম্মুকে কাজে সাহায্য করেছি, ফ্রেশ হয়ে পরিবারে সবাই এক সাথে খাবার খেয়েছি, একটু ঘুমিয়ে নিয়েছি, বিকেল সময়টায় সবাই তৈরি হয়ে অনেক ছবি তুলেছি।
লাস্ট কোন ঈদে আমরা পরিবারের সবাই মিলে ছবি তুলেছি আমার ঠিক মনে নেই কিন্তু এইবার সেই সুযোগটি করোনা ভাইরাস করে দিয়েছে।’
পরিবারের সাথে না কাটানো সময় গুলো এইবার কাটিয়েছি। আমার মনে হয় এই ঈদ আমার কাছে সব দিক থেকেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিগত ঈদ গুলোতে, ঈদের ২য় দিনই বের হয়ে যেতাম পাহাড়, সমুদ্র আর ঝর্ণা কোলে। সেই কারনে পরিবারকে খুব বেশি সময় দিতে পারতাম না। তার উপর ছুটিও থাকতো কম।এজন্য পরিবারের মানুষ জনেরও আমার উপর একটা লুকায়িত অভিমান ছিলো। এই ঈদেই সেটা বুঝতে পেরেছি।

আল্লাহ রহমতে যদি বেঁচে থাকি পরবর্তী সময়ে সব কিছুর সাথে সাথে সমানভাবে পরিবারকে সময় দিবো।