ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০

নানা সংকটে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা

:: সিটি রিপোর্ট || প্রকাশ: ২০২০-০৬-০২ ১৫:৫৮:১৫

করোনাভাইরাসের কারণে মানবেতর জীবন-যাপন করছে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
নানা সংকটে দিন পারছে তারা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করার জন্য আবেদন করেছে। করোনার কারণে ফের তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রণোদনা চেয়ে আবেদন করেছে।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ মামুনুর রশিদ খোকন এ আবেদন করেন।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের প্রার্দুভাব দিন-দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে সেই সাথে মৃত্যু ও সরকারের পক্ষ থেকে সকল পেশার মানুষকে ঘরে থাকার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে । সেই সাথে দীর্ঘ হচ্ছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ । এতে করে সরকারের অনুদান প্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিপাকে না পড়লে ও ,
বিপাকে পড়েছে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ও ঐসব বিদ্যালয়ের কমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা । তারাও বঞ্চিত হচ্ছে করোনা কালীন সরকারের উপবৃত্তি থেকে , এতে করে চরম অর্থ সংকটে পড়েছেন শিক্ষক ও অসহায় ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকরা । তারাও তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে । এতে করে প্রাথমিক শিক্ষার হার ঝড়ে পড়বে বলে অসংখ্য করছে । এদিকে নন-এমপি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এককালীন প্রণোদনা জন্য শিক্ষকদের তথ্য নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তায় , ব্যবস্থা না হওয়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা ।

বেতন ভাতা না থাকায় জীবন-যাপনের জন্য এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা পাঠদান শেষে বিভিন্ন ক্ষুদ্র কাজে কর্মরত ছিলো । করোনা ভাইরাসের কারণে তাও বন্ধ ।

কর্মহীন হয়ে পড়ায় স্ত্রী সন্তান মা বাবা পরিবার-পরিজন নিয়ে মহা -বিপদে আছেন তারা এমনকি অনেক শিক্ষকের পরিবারে ঈদের ছোঁয়া লাগেনি এবার ।

যেখানে বেসরকারি শিক্ষকদের নুন আনতে পানতা ফুরায় সেখানে দীর্ঘ-দিন কর্ম না থাকায় অর্ধাহারে – অনাহার ঘরে থাকতে হচ্ছে তাদের।

হে মান্যবর প্রধানমন্ত্রী

আপনি মানবতার মা । এই দেশের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আপনি ও আপনার পরিবারের যে ত্যাগের নজির রয়েছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল । দেশের মানুষকে ভালো রাখতে দিন-রাত চেষ্টা করে যাচ্ছেন ।দেশের সবচে বেশি পরিশ্রমী মানুষ এখন আপনি । করোনা মোকাবেলায় আপনার উদ্যোগ শ্রম ও তৎপরতা বিশ্বে প্রশংসিত ।

এই সংকট-কালে ৫০ লক্ষ মানুষের মধ্যে মানবিক সহায়তা ও নানা খাতে প্রণোদনা ঘোষণা করে ইতোমধ্যেই আপনি সংকটাপন্ন মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন । একজন উদার , মানবিক, জন-দরদি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ।

এই সংকটকালে দেশের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে শিক্ষাখাত । বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা । প্রাথমিক শিক্ষা , শিক্ষার মুলভিত্তি হলে ও ২০১৩ সনে জাতীয়করণ কালীন পরিসংখ্যান ভুলের কারণে অল্প সংখ্যক বিদ্যালয় জাতীয়করণের বাহিরে । প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ সরকারি বেতন ভাতা পেলেও আর একটি অংশের কপালে জোটেনি বেতন ভাতা । করোনা সংকটে ও জোটেনি প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা । এমতাবস্থায় ২০২০-২১অর্থ বছরে এই বিদ্যালয়গুলোর জাতীয়করণের অর্থ বরাদ্দ রেখে ।জরুরি ভিত্তিতে এই শিক্ষকদের বেতন ভাতা ও প্রণোদনার সবিনয় অনুরোধ করছি ।

হে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী

আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে,০১.০৭.১৯৭৩ সনে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৬,১৬০ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন । জাতি গঠনের নিপুন কারিগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিভাবক হয়ে হ্নদয়ে চির -স্বরনীয় হয়ে আছেন।
এরপর , অনেক সরকার ক্ষমতায় থাকলে ও কেউ আর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করেননি ।

আপনি ও আপনার বাবার মত বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্ব হাতে নিয়েই বাঙালী জাতির শিক্ষার মুল ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যে ০৯ জানুয়ারি২০১৩ সনে-২৬,১৯৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন । কিন্তূ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সেই সময় মাঠ পর্যায় থেকে তরীঘরি করে ২৬,১৯৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের , পরিসংখ্যান আপনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিলো সেই সংখ্যাটা ৩০,০০০ হাজারের একটু বেশি ছিলো । সেখানে ২৬,১৯৩ টি বিদ্যালয়ের সংখ্যা আপনার হাতে তুলে দেওয়ায় প্রায়-৪১৫৯ টি বিদ্যালয় জাতীয়করণে বাহিরে রয়ে যাই ।এবং এই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জন্য বিভিন্ন সময় আপনার কাছে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।পরিশেষে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘআয়ু কামনা করে এই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।