ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনা: অনলাইন ক্লাস নিয়ে যা ভাবছেন রাবি শিক্ষকরা

:: মিনহাজ আবেদিন || প্রকাশ: ২০২০-০৬-০২ ১৭:৫৩:৫৬

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। তারপর পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময় সেশনজট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এজন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাসের আওতায় আনা যায় কিনা তা নিয়ে ভাবছেন শিক্ষকরা।

অধিকাংশ শিক্ষক বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর বাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় অনলাইনে ক্লাস সম্ভব নয়। তবে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজনীয় ইকুইমেন্ট দিতে পারলে তবেই সম্ভব। অনলাইন ক্লাস নিয়ে রাবি শিক্ষক কী ভাবছেন? মুঠোফোনে কথা বলে লিখেছেন- মিনহাজ আবেদিন।

 

অনলাইন ক্লাসের নেয়ার পূর্বে শিক্ষার্থীদের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে

অধ্যাপক মনিমুল হক
পরিসংখ্যান বিভাগ

আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উর্ধ্বগামী প্রবণতা থাকার পরও অফিস-আদালত খুলে দিলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার সিদ্ধান্ত সময়োপয়োগী। যে কোন মহামারির পর চাইলেই হুট করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায় না। বেশ কিছু নিয়ম-কানুন মেনে তবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার পরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে বেশ কিছু গাইডলাইন দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করতে হবে। আমাদের দেশে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দিলে মিলিয়ন মিলিয়ন মাস্ক লাগবে। আমরা কি সেভাবে প্রস্তুত আছি? আমার মনে হয়, দেশে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসারও দুই সপ্তাহ পর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া উচিত । মানুষের জীবন রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ।

এখন প্রশ্ন হলো লম্বা সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে কি সমস্যা হতে পারে? সবচেয়ে বড় যে সমস্যা হবে তা হলো- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার সেশনজটে পড়ে যাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক চেষ্টা করে সকলের সহযোগিতায় সেশনজট দূর করতে সক্ষম হয়েছিল। সেশনজট বেড়ে গেলে স্বাবলম্বী হতে দেরী হবে। এর বাইরে যা হতে পারে তা হলো- শিক্ষার্থীদের ক্লাসের প্রতি অনিহা তৈরী হতে পারে, একদিকে করোনা ভীতি অন্যদিকে লেখাপড়া থেকে দূরে থাকার ফলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী গৃহ শিক্ষক হিসাবে তার নিজের ও পরিবারের খরচ চালাতো তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক নিজ দায়িত্বে বিচ্ছিন্নভাবে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। দীর্ঘ এই ছুটিতে লেখাপড়ার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলীর এই উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে।

এখন প্রশ্ন হলো- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সক্ষমতা কি আসলেই নেই? করোনা মহামারি শুরুর পরপরই আমি আমার বিভাগের সব বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে আলাদাভাবে অনলাইনে মিটিং করে করোনা পরিস্থিতি ও অনলাইন ক্লাসের ব্যাপারে আলোচনা করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই গ্রামে থাকে এবং দেশের অনেক গ্রামে ঘরে বসে ফোনে ঠিকমতো কথা বলা যায় না। ঘরের বাইরে যেতে হয় এবং সেখানে নেই কোন ইন্টারনেট সংযোগ আর থাকলেও তা অতি দূর্বল । অনেক শিক্ষার্থী গৃহ শিক্ষকতা করে কিংবা অন্য কোনো ছোটখাটো কাজ করে তাদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে কেউ কেউ বাড়িতে টাকা পাঠাত তাদের অভিভাবকদের যা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সেসকল শিক্ষার্থী এখন গ্রামে অবস্থান করছে। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে গ্রামেও কোন কাজ নেই। ফলে শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের কোন রোজগার নেই। শহরে থাকা গরীব শিক্ষার্থীদেরও একই অবস্থা । অনেকেরই তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ নেই। এই অবস্থায় অনলাইনে ক্লাস নেয়া আমার কাছে বিলাসিতা বলে মনে হয়।

অনলাইনে ক্লাস নেয়ার ব্যাপারে আমার নিজের কোন আপত্তি নাই। তবে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার আগে গরীব শিক্ষার্থীদের তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, সকল শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ বা স্মার্ট মোবাইল ফোনের ব্যবস্থা করতে হবে, দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ ও ইন্টারনেট প্যাক নামমাত্র মূল্যে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যবসায়ী, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্যোগ এবং সহযোগিতা কামনা করছি। আসুন আমরা সকলে মিলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি।

অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দরকার

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান
সভাপতি
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশ করোনা মহামারিতে আক্রান্ত। এতে দেশে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে এ ছুটি খুবই জরুরী। কারণ যেহেতু এখানে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল বা আবাসিক ছাত্রাবাসে একসঙ্গে খুবই ছোট পরিসরের মধ্যে অবস্থান করে। ক্লাস রুম ও লাইব্রেরীতে তারা খুবই কাছাকাছি অবস্থান করে পাঠ গ্রহণ করে থাকে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি প্রদান করা আবশ্যকীয়। এটি খুবই প্রশংসনীয় ও সময়পোযুগী উদ্যোগ। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের সকল উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক একটি প্রজ্ঞাপন সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন হতে আপনার কোন সহায়তা প্রয়োজন রয়েছে কিনা?’ আমরা এ প্রজ্ঞাপনকে সাধুবাদ জানাই। তবে অনলাইন সিস্টেমে ক্লাস চালু করার জন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, জিনিসপত্রসহ বহু বিষয়ের সমন্বয় ঘটাতে হবে। যাতে সকলে সহজ উপায়ে এ সুবিধাগুলো পেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ ও শিক্ষকবৃন্দ হয়ত তুলনামূলকভাবে সহজেই এ উপাত্তগুলো পাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে।

যেহেতু আমাদের শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই গ্রামীণ অঞ্চল থেকে পাঠ গ্রহণ করতে এসেছে। যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ সন্তোষজনক নয়। এছাড়া তাদের একটি অংশ আর্থিকভাবে সচ্ছল নয়। ফলে অনলাইনে ক্লাস করার জন্য তাদের নিকট এনড্রোয়েট মোবাইল ফোন নেই। তাই শিক্ষার্থীদের কীভাবে এ সুবিধার আওতায় আনা যায় তা পূর্বেই নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করি। শিক্ষকবৃন্দকে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।শিক্ষকবৃন্দকেও বিভাগে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি তাদেরকে আবাসিকভাবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অথবা ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করলে অনলাইন ক্লাস গ্রহণ আরও তরান্বিত হবে বলে আশা করা যায়। ইতোপূর্বে ইউজিসি কর্তৃক প্রেরিত অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস গ্রহণের কোশেনিয়ার অত্র বিভাগের যে সকল শিক্ষক পূরণ করেছেন এবং যারা পূরণ করেননি, তাঁদের সবাইকে অনলাইন ক্লাস পরিচালনার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ এবং ইউজিসি এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল শিক্ষককে অনলাইনে ক্লাস গ্রহণের জন্য অন্তর্ভুক্তকরণ। এ ক্ষেত্রে সকল শিক্ষকের মোবাইল নাম্বার, ই-মেইল ঠিকানা সংরক্ষণ করে তাদেরকে তথ্য আদান প্রদানের জন্য লিংকেজ তৈরী করা যেতে পারে। যাতে তাঁরা সর্বদা অনলাইন বিষয়ে আপডেট থাকতে পারেন। উপর্যুক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করে নীতিমালা তৈরি করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস গ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা ব্যক্ত করছি।

অনলাইন ক্লাসে গেলে অনেকে শিক্ষা বৈষম্যের শিকার হবে

সাদিকুল ইসলাম সাগর
সহযোগী অধ্যাপক
আইন বিভাগ

আমরা জানি আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা। অনেকেই আছে যারা রাজশাহীতে টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চলাতো। পরিবারে নিম্ন আয়ের পথটুকুও এখন বন্ধ হয়ে গেছে লকডাউনে। সেখানে অনলাইনে তাদের ক্লাস করাটা কতটা কঠিন তা বোধহয় সহজেই অনুমেয়।

অনলাইনে ক্লাসের জন্য ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সুবিধাজনক নাই আমাদের অনেক ছাত্রছাত্রীদের নিকটে। যেখানে মুষ্টিমেয় কজন ধনী ছাত্রের আছে আনলিমিটেড ডাটা এক্সেস। আর গরীব ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের তা নেই। তাই আমি মনে করি অনলাইন ক্লাসে গেলে আমাদের অনেক ছাত্রছাত্রীরা নিশ্চিত শিক্ষা বৈষম্যে শিকার হবে।

বেশীরভাগ শিক্ষার্থী আমাদের সাধারণ পরিবার থেকে আসা। তাদের হাতের স্মার্ট ফোনে ২০এমবি-৩০এমবি ডাটা প্যাক দেখে হয়ত আপনি ভাবছেন তারা নেটে আছে! কিন্তু, অনলাইন ক্লাসের ভিডিও ডাউনলোড করতে এমবি নয়, জিবির পর জিবি ডাটা লাগে। অলমোস্ট আনলিমিটেড ডাটা প্যাকেজ ছাড়া যা প্রায় অসম্ভব। এই করোনায় যখন তাদের পরিবার বেচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত তখন আমরা কি পারি তাদের উপর ডাটা প্যাক কেনার বোঝা চাপিয়ে দিতে? তাছাড়া আমাদের অনেক ক্লাসে ১০০ জনের বেশি ছাত্রছাত্রী আছে তাদেরকে নিয়ে অনলাইন ক্লাস মেনেজমেন্টও একটু চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার বলেই বোধকরি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। কারণ তাদের প্রতি ব্যাচে কম সংখ্যক ছাত্রছাত্রী থাকে যাদেরকে নিয়ে সহজেই ক্লাস ম্যানেজমেন্ট করা যায় আর তারা মোটামুটি সবাই সচ্ছল পরিবারের বলেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যায় ভার বহন করতে পারে। তাদের সবারই রয়েছে আইসিটির সম্পূর্ণ সুযোগ সুবিধা, যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের অনেকাংশেই কম। আর এখন করোনা পরিস্থিতির এই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে ক্লাস করাও সম্ভব নয় আপাততঃ বলেই আমি মনে করি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়ে এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও ক্লাসে কোনভাবেই সামাজিক দূরত্ব পালন করা সম্ভবপর নয়। সুতরাং, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আরও একটু সময় নিয়ে ভেবে চিন্তেই আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার।

আগে শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি আমলে নিয়ে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে

গোলাম ফারুক সরকার
সহযোগী অধ্যাপক
নৃবিজ্ঞান বিভাগ

অনলাইন ক্লাস চালু করার আগে সরকারকে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট রেশনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। যে সকল শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ফোন নেই তাদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের অধীনস্ত তথ্যকেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত করে দিতে হবে যাতে প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীরা সেখানকার ডিভাইজগুলো ব্যবহার করতে পারে এবং প্রশিক্ষিত জনবলের সহায়তা নিতে পারে। বিভাগগুলোতে অনলাইন এক্সেস করা ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইজ এবং জনবল নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকের ভিডিও লেকচার আপলোড করে সেই লেকচার নিয়ে মেইল/মেসেঞ্জারে শিক্ষার্থীরা বোঝাপড়া সেরে নিতে পারবে।

শিক্ষক প্রদত্ত কোর্সের ম্যাটেরিয়াল এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এ্যাসাইনমেন্ট থাকবে যা মেইলের মাধ্যমে আদান-প্রদান হবে। শিক্ষার্থী তার এ্যাসাইনমেন্ট মেইলে শিক্ষকের কাছে জমা দিবে এবং শিক্ষক সেটার মূল্যায়নের যাবতীয় তথ্য মেইলের মাধ্যমে সম্পন্ন করবেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন লাইব্রেরীর পরিসর বাড়িয়ে দিতে হবে এবং ডিসিপ্লিন অনুযায়ী রিসোর্স এর পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে অনলাইন সেবা নিয়মিত রাখতে হবে। করোনায় বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পাশে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।

সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের জায়গাটা নিশ্চিত করার জন্য নতুন বাস্তবতার সাথে নতুন করে নিজেদের মানিয়ে নেয়ার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা তাদের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। মনে রাখতে হবে তারা টারশিয়ারী লেভেলের শিক্ষার্থী এবং তাদের গবেষণা নির্ভর পড়াশুনার পর্যায় যাতে নিশ্চিত করা যায়। সরকারের সুচিন্তিত পদক্ষেপ যেন শিক্ষাবিদ, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে হয়। যাই করা হোক, তা যেন শিক্ষার্থীদের মন বিষিয়ে না তোলে বরং তারা যেন সানন্দে নতুন শিক্ষাপদ্ধতি গ্রহণ করে সেশনজট দূর করতে পারে। করোনা পরবর্তী পৃথিবীকে তো তাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।