ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

শোক ও শক্তির চেতনাদীপ্ত আগস্ট মাস শুরু

:: সিটি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-০৮-০১ ০৫:৩১:০৯

পৃথিবীর ইতিহাসে এক বেদনাবহ মাস আগস্ট। প্রতিটি বাঙালির জীবনে সপরিবারে জাতির পিতাকে হারানোর সুতীব্র দহনে জর্জরিত মাস আগস্ট। বেদনাদীর্ণ আগস্ট শোককে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালি জাতির পুনরুজ্জীবনের মাস।

১৯৭৫ সালের এমন এক আগস্ট মাসের পনের তারিখ মানব ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে নিহত হন বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতি হারায় তার শ্রেষ্ঠতম সন্তান, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহানায়ককে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত বাংলাদেশ এই হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে প্রবেশ করে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের কালো রাজনীতির স্বৈর-সামরিকতার অন্ধকার অধ্যায়ে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে রক্তাক্ত পনের আগস্টে জাতির অস্তিত্বে ঘাতক-ষড়যন্ত্রকারীরা হানে চরম আঘাত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মর্মবাণী হয় ভূলুণ্ঠিত। নতুন, উদীয়মান, সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে করা হয় ব্যাহত। বাংলাদেশের অগ্রগতিকে পেছন দিকে চালিত করা হয়। গণতন্ত্র, সমানাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, মুক্তিযুদ্ধের শাশ্বত চৈতন্যকে চরমভাবে ক্ষত-বিক্ষত করে ঠেলে দেওয়া হয় অনুন্নয়ন ও পশ্চাৎপদতার মধ্যযুগীয় অন্ধকারে।

ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। যারা ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম ও স্বাধীনতার শত্রু, তারাই সম্মিলিতভাবে আঘাত হানে বাঙালি জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। ঘাতকরা চেয়েছিল বাঙালির গৌরবময় সংস্কৃতি, উদার রাজনৈতিক মতাদর্শ ও স্বাধীন অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিতে।

কিন্তু ইতিহাস মেনে নেয়নি এমন নৃশংসতা। জাতি মেনে নেয়নি ঘাতকদের উল্লাস। পদ্মা, মেঘনা, যমুনার নদীমাতৃক জনপদ মেনে নেয়নি বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশকে। প্রতিবাদে-প্রতিরোধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয় বাঙালি জাতি। সামরিক-বেসামরিক মদদপুষ্ট ঘাতক ও তাদের রাজনৈতিক সহযোগীদের চিরনির্মূল করে পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের।

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য। ইতিহাসে একাকার দুটি সত্তা। বাঙালি জাতির সকল অর্জন ও সংগ্রামের ইতিহাসের পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ রয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহত্তম অবদান। বঙ্গবন্ধু চিরবহমান বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাসের মূলস্রোতে।

শোক ও শক্তির অনিঃশেষ চেতনাদীপ্ত আগস্ট হলো শপথে শাণিত হওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ। শোককে শক্তিতে রূপান্তিত করার মহালগ্ন। বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ স্বপ্নকে বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফল করে সোনার বাংলা বিনির্মাণের প্রত্যয়দীপ্ত অঙ্গীকারের ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত।

শোক ও শক্তির অনিঃশেষ চেতনাদীপ্ত আগস্ট মাসে বাঙালির নবপ্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে সকল ধরনের সন্ত্রাস, সহিংসতা, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদের কবল থেকে মুক্তির প্রতীতি ঘোষণা করে। হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্র, স্বৈর-সামরিকতন্ত্রের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে চিরদিন লড়াই করার অঙ্গীকার জানায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক, উয়ন্নয়মুখী, ধর্মনিরপেক্ষ, বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়।

পাশাপাশি সমগ্র জাতি বেদনার্ত চিত্তে ও পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করে জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহীদ সদস্যদের। মহান আল্লাহ কাছে তাদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করে। শোক ও শক্তির অনিঃশেষ চেতনাদীপ্ত আগস্টে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ও চেতনায় আপ্লুত হয় সমগ্র জাতি। জাতির প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত বজ্রকণ্ঠে পুরো বাংলাদেশে ঘোষিত হয় জাগরণের স্লোগান, ‘এক মুজিব লোকান্তরে, লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে।’