ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সচেতন হতে হবে

:: আবু হানিফ || প্রকাশ: ২০২০-০৯-০৮ ১৪:৩৬:৩৭

বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে যোগাযোগের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব ও প্রভাব অনস্বীকার্য। পারস্পরিক যোগাযোগ, বার্তা আদান-প্রদান, মতামত প্রদান, ছবি শেয়ারিং ইত্যাদি আরো অনেক সুবিধার জন্য ফেসবুক ব্যবহারের জুড়ি নেই।

কম বেশি সব বয়সী মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করলেও আমাদের দেশে এই ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই ছাত্রছাত্রী ও তরুণ। তবে এ ফেসবুক ব্যবহারে সুফল থাকলেও রয়েছে এর ভয়াবহ কুফল। ফেসবুক ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যম যেমন- টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ইত্যাদিতে ঝুঁকে পড়েছে উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা । এতে করে নষ্ট হচ্ছে পারস্পরিক সম্পর্ক গুলো। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে। যার ফলে প্রতিনিয়ত পরস্পর বিরোধী লেখালেখি হচ্ছে ফেসবুকে। এতে করে একজনের সাথে আরেকজনের বাড়ছে আক্রোশ।

তাছাড়া ফেসবুকে গোপনীয়তা বলে তেমন কিছুই নেই। ফলে অনেকেই বিভিন্ন রকমের হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ফেসবুকে। এছাড়াও ফেসবুকে নারীদের কে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হয়। খেতে, বসতে, শুতে এমনকি রাত জেগে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে অযথা মূল্যবান সময় নষ্ট করে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এন্ড্রয়েড মোবাইলের নীল আলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ঘাটতির কারণে চোখের ক্ষতির পাশাপাশি মরণব্যাধি ভয়ঙ্কর ব্রেস্ট এবং প্রস্টেট ক্যান্সার সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও এই নীল আলো মেলাটনিন হরমোন কমানোর সঙ্গে সঙ্গে রেটিনার কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দেয় ফলে কমে যায় দৃষ্টিশক্তি। এতে ছাত্রছাত্রীদের কর্মক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তিও ক্রমশ লোপ পাচ্ছে।

আমাদের সকলের উচিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সচেতন হওয়া। যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কার্যকর কোন নীতিমালা নাই। যার ফলে এখানে মন যা চায় তাই লেখা যায়। তাই এসব বিষয়ে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।

লেখক,
যুগ্ম আহ্বায়ক
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।