ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

করোনা মহামারীতে হার না মেনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগিয়ে যাওয়ার গল্প

:: এমএইচ মোবারক || প্রকাশ: ২০২০-০৯-১২ ১৫:৫৯:৩৬

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রাথমিক স্তর হতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে পুরো বিশ্বের উদ্বিগ্নতার মূল কারণ কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) মহামারি। বর্তমানে এরকম একটা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে প্রায় সবকিছু সচল হলেও একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকির কথা ভেবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখ বা না রাখার ব্যাপারে অভিভাবকদের ভিন্নমত থাকলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাই শ্রেয়-নিরাপদ ও যৌক্তিক।

তবে সবচাইতে আসার খবর ও আনন্দের বিষয় হচ্ছে এই করোনাকালেও বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার প্রসারে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে করোনার কাছে মাথা নত না করে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত করে পাঠদান করে যাচ্ছে। বর্তমানে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি অনুষদের অধীনে ১৪ টি বিভাগে ৩৪ টি প্রোগ্রাম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এর ঘোষণার পরপরই উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের ৮৯% শতাংশ অনলাইন মাধ্যমে সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ শিক্ষার বিস্তারে আমি মনে করি উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রচেষ্টা এবং সফলতা অবশ্যই একটি মাইলফলক।

আমরা জানি করোনার প্রভাবে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের পড়াশুনা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয় তার জন্য অনলাইন মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে দেন এবং অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ৮৯% শিক্ষার্থীদের কে অনলাইন মাধ্যমে পাঠদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন, সেই সকল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণের মনে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় স্বস্তি এনে দিতে সক্ষম হয়েছেন অনলাইন পাঠদান প্রক্রিয়ার মধ্যমে।

একটা বিষয় না বললেই নয়, বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে আরো অনেকগুলো সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় কি করে বা কোন উপায়ে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ৮৯% শতাংশ শিক্ষার্থীকে অনলাইন পাঠদান কর্মসূচির আওতায় সংযুক্ত করতে সক্ষম হলেন। এই প্রশ্নের উত্তরে আমি পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-

১। গত ১৭ই মার্চ থেকে করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাবের ফলে এখন পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার দু বছর আগ থেকেই উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় G-Suit Account (জি-সুট একাউন্ট) নামে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করে রেখেছিলেন। এই প্লাটফর্মটি তৈরি করার উদ্দেশ্য ছিল উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়কে সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিগতভাবে সমৃদ্ধ করে রাখা। আমরা কেউই জানতাম না এরকম একটা মহামারী এসে আমাদের দেশের সবকিছুকে স্থবির করে দিবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এরকম আগাম প্রযুক্তি চিন্তার কারণে জটিল পরিস্থিতিতে তাদের ৮৯% শিক্ষার্থীকে পুরোপুরিভাবে অনলাইন পাঠদান কর্মসূচির আওতায় সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

২। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে প্রায় সাত মাস হতে চললো। করোনার প্রভাবে শুরু থেকেই উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অনলাইন পাঠদান কর্মসূচি এবং পরীক্ষা কর্মসূচি অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন করে যাচ্ছে। উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় করোনাকালীন এই অনলাইন পাঠদান ও পরীক্ষা থেকে তাদের কোনো শিক্ষার্থীকে টিউশন ফি এর জন্য এ কর্মসূচির বাইরে রাখেনি। শিক্ষার্থীরা আর্থীক সামর্থ্য অনুযায়ী টিউশন ফি প্রদান করেছে, যে সমস্ত শিক্ষার্থী টিউশন ফি প্রদান করতে পারেনি উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদেরকেও অনলাইন পাঠদান ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিয়েছে। উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই করোনাকালীন সময়ে টিউশন ফি প্রদানের জন্য বাড়তি কোনো চাপ ছিল না।

৩। উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এবং একাডেমীক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি সম্মিলিতভাবে তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে কাজ করছে এই করোনাকালীন সময়ে। বিশেষ করে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আজিজুর রহমান এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আরা লেখা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাজী মহিউদ্দিন করোনাকালীন এ সময়টাতে শিক্ষার্থীদের অনলাইন পাঠদান কর্মসূচি ও পরীক্ষায় অংশ নিতে কোন রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয় এ বিষয়টিতে খুব বেশি জোর দিয়েছেন। তারই ফলাফল হচ্ছে এই করোনাকালীন সময়ে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পাঠদান কর্মসূচি ও পরীক্ষাগ্রহণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে আজকের এই ৮৯% শতাংশ সফলতা।

করোনাকালীন এ সময়টাতে সকল অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে বলবো, আপনারা আপনাদের সন্তানদের ব্যাপারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখবেন। আপনার সন্তানের মনোযোগ ও পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য অন্তত কিছু সময় দৈনিক রুটিন করে ক্লাসের বইগুলো পড়তে বলবেন।

এর পাশাপাশি পত্রিকা, গল্প, কবিতা, উপন্যাস, সাইন্স ফিকশন, ধর্মীয় বইসমূহ পড়ে সময়টাকে কাজে লাগাতে হবে। আপনার সন্তানের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড মূল্যায়ণ করুন। ভালো কর্মের জন্য বাহবা দিন আর খারাপ হলে বুঝান, সাহস দিন পরবর্তীতে ভালো করবে বলে আশা জাগান এবং পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিন। এখন যেহেতু পর্যাপ্ত সময় রয়েছে তাদের বাহিরে যাওয়ার প্রবণতা থাকতেই পারে, তাই বাহিরে গেলে কাদের সাথে মিশছে, কারা তার সঙ্গী হয় সেটা খেয়াল রাখা খুবই জরুরি বলে মনে করছি।

পরিশেষে একটা কথাই বলবো আপনার সন্তান আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক গাইডলাইনের মাধ্যম হচ্ছে প্রথমত পরিবার দ্বিতীয়ত তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব । আপনার উদাসীনতার কারণ হতে পারে আপনার সন্তানের বিভীষিকাময় ভবিষ্যৎ। উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সদাপ্রস্তুত আপনার সন্তানকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া প্রত্যয় নিয়ে। আশা করছি অচিরেই শিক্ষার্থীরা তাদের সুস্থ শিক্ষাঙ্গন ফিরে পাবে। আশার প্রদীপ নিয়ে বসে থাকা সকল শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের প্রতি শুভ কামনা রইল। সকলেই ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

লেখক
জন-সংযোগ কর্মকর্তা
উত্তরা ইউনিভার্সিটি