ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বহাল থাকছে নারী, পুরুষ ও পোষ্য কোটা

:: সানজিদা সোনি || প্রকাশ: ২০২০-০৯-১৪ ০৭:০৬:৩১

সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ‘কোটা’ বাতিল করা হয়েছে। তবে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী নারী, পোষ্য ও পুরুষ কোটা বহাল থাকবে। সে অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষকদের পদটি ১৩তম গ্রেড রয়েছে। পূর্বে তা ১৪ ও ১৫তম গ্রেডে ছিলো। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটা থাকবে না। সে আলোকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগেও এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে।

জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত কোটা সুবিধা বাতিল করা হলেও পূর্ব থেকে নির্ধারিত ৬০ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ পুরুষ এবং ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা বহাল থাকবে। অর্থাৎ নারী, পুরুষ ও পোষ্য বাদে অন্য যেসব কোটা রয়েছে তা আর থাকছেনা।

বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) এ এম মনসুর আলম গণমাধ্যমে বলেন, সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে সব কোটা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী নারী, পুরুষ ও পোষ্য কোটা বহাল থাকবে। সে অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি তৈরি করা হয়ে গেছে। এখন সেটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বা অাগামী (অক্টবরের) মাসের প্রথম সপ্তাহে সেটি প্রকাশ করা হতে পারে। এরপর শুরু হবে নিয়োগ কার্যক্রম।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ২৫ হাজার ৩০০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক ও ১০ হাজার শূন্যপদে (এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে) সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে ওয়েবসাইট আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে ডিপিই থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই তা অনুমোদন হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার চাকরি প্রার্থীর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারী নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (পাস) বা সমমান ডিগ্রি থাকতে হবে। গত বছর অনলাইন আবেদন ফি ১৬৬ টাকা হলেও এবার আবেদন ফি কিছুটা বাড়ানো হচ্ছে। বুয়েট ও টেলিটক মোবাইল কোম্পানির সহায়তায় আবেদন গ্রহণ, কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানো, খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ করা হবে। চলতি মাসের শেষে অথবা অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অনলাইন আবেদনের জন্য এক মাস সময় দেয়া হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) এ এম মনসুর আলম বলেন, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ২৫ হাজার ৩০০ জন নিয়োগ দেয়া হবে। এটি প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৪ (পিইডিপি) এর আওতাভুক্ত হলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এ স্তরের শিক্ষকদের রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া শূন্য সব পদে আরও ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। দুই স্তরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অধিদফতর থেকে পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন করে চলতি সপ্তাহে পাঠানো হবে। এরপর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ নিয়োগের পরবর্তী কাজ শুরু হবে।