ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

সরকার না মানলেও জোরালো হচ্ছে বয়স বাড়ানোর দাবি

:: সানজিদা সোনি || প্রকাশ: ২০২০-০৯-২৬ ১৩:২৫:০১

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিটি সরকার ‘আমলে’ নিচ্ছে না। সরকার বিষয়টি পাশ কাটিয়ে গেলেও চাকরিপ্রার্থীদের দাবি দিন দিন জোড়ালো হচ্ছে। তারা বলছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবেই।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩২ বছর।

জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর জন্য কয়েক দফা সুপারিশ করা হয়। গত সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ ফের সরকার গঠন করলেও চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স বাড়ানোর কোনো চিন্তা সরকারের নেই।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে সবকিছুর মতো তাদের আন্দোলনেও স্থবিরতা নেমে ছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রেস ক্লাবে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে ফের আন্দোলন শুরু করেছে তারা। তারা জানান, শিগগিরই তারা দাবি আদায়ে দেশব্যাপী জোরদার আন্দোলনের ডাক দেবেন।

একসময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ছিল ২৫ বছর আর অবসরের বয়স ছিল ৫৫ বছর। স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুর দিক থেকে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ২৭ বছর আর অবসরের বয়স ৫৭ বছর করা হয়। ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স তিন বছর বাড়িয়ে ৩০-এ উন্নীত করা হয়। ২০১২ সালে দুই বছর বাড়িয়ে অবসরের বয়স ৫৯ বছর করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়স করা হয় ৬০ বছর।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের বড় একটি সমস্যা হলো সেশনজট। লেখাপড়া শেষ করতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী মোটামুটি ৪ বছরের সেশনজটে পড়েন। যেখানে ২৪ বছর বয়সে মাস্টার্স শেষ করার কথা, সেখানে ২৮ বছর লেগে যায়। থাকে আর ২ বছর। ২ বছর পরই আমাদের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ১৭ বছর অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়ে লেখাপড়ার দুই বছর পর আমার শিক্ষাগত সনদ ইনভ্যালিড হয়ে যায়। ৩০ বছর পার হওয়ার পর লেখাপড়া শিখেও আমি একজন অশিক্ষিত মানুষের মতো হয়ে যাই সরকারের কাছে। শিক্ষাই জতির মেরুদণ্ড কিন্তু শিক্ষিত হয়ে ৩০ বছর পর আমি মেরুদণ্ডহীন হয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সেশনজট নেই, এটা ভুল কথা। এখনও সেশনজটের জন্য সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।

অন্য একজন আন্দোলনকারী বলেন, পাশের কোনো দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছর নেই।ভারতে করোনাকালে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৮ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে। করোনার কারণে বাড়ানো হলেও এটা স্থায়ীভাবেই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেকে বলছেন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করা হলে বেকার সমস্যা আরও বাড়বে। যখন ২৭ থেকে ৩০ করা হয়েছিল তখন কি সমস্যা হয়েছিল? বয়সসীমা বাড়ানো হলে, সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলেও ২/১ বছর পর তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এ জন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়িয়ে কমপক্ষে ৩৫ করার দাবি জানাচ্ছি।